রেকর্ড পেমেন্টে ৪৮ লক্ষ আখ চাষির মুখে হাসি ফোটাল যোগী সরকার

উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি আখ চাষ ও চিনি শিল্পে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার আখ চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষায় এবং তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজ্যের চাষিদের রেকর্ড ৩,২২,৭২২ কোটি টাকা মেটানো হয়েছে। সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (ডিবিটি) স্থানান্তরিত করায় এই খাতে দালাল ও ফড়েদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের এই ব্যবসায়ী-বান্ধব ও কৃষক-কেন্দ্রিক নীতির ফলে চিনি উৎপাদনে মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের মতো রাজ্যকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ।
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা
আখ চাষের পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে যোগী সরকার চালু করেছে ‘স্মার্ট আখ চাষি’ নামক একটি আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর সিস্টেম। এই অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আখের জমির পরিমাণ নির্ধারণ, চুক্তি সম্পাদন, ক্যালেন্ডার তৈরি এবং পার্চি বা স্লিপ দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। চাষিরা এখন ঘরে বসেই তাঁদের মোবাইলে আখের স্লিপ পেয়ে যাচ্ছেন। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন চাষিদের হয়রানি কমেছে, অন্যদিকে তেমনই উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধি ও বকেয়া মেটানোর নজির
২০২৫-২৬ মাড়াই মরশুমে উত্তরপ্রদেশে মোট ১২১টি চিনিকল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে ৮৭৭.৯৬ লক্ষ টন আখ মাড়াই করে ৮৯.৬৮ লক্ষ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। বিশেষত, উত্তরপ্রদেশে চিনি পুনরুদ্ধারের গড় হার (Average Sugar Recovery) দাঁড়িয়েছে ১০.২১ শতাংশ, যা মহারাষ্ট্র (৯.৪৯%) ও কর্নাটকের (৮.১৯%) তুলনায় অনেকটাই বেশি। পাশাপাশি, চলতি মরশুমেই চাষিদের অ্যাকাউন্টে ৩০,৮৩১.৮১ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ চাষি ইতিমধ্যেই তাঁদের বকেয়া অর্থ হাতে পেয়েছেন। বাকি চিনিকলগুলিকেও দ্রুত পাওনা মেটানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
মূল্য বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন গতি
চলতি মরশুমে যোগী সরকার আখের দাম কুইন্টাল প্রতি ৩০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে উন্নত জাতের আখের দাম প্রতি কুইন্টাল ৪০০ টাকা এবং সাধারণ জাতের জন্য ৩৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজ্যের চাষিরা প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। সময়মতো পাওনা পরিশোধ এবং ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির ফলে উত্তরপ্রদেশের প্রায় ৪৮ লক্ষ আখ চাষি পরিবার সরাসরি লাভবান হচ্ছে। সরকারের এই নীতি রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করছে।