কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগ, লোকসভার স্পিকারের দ্বারস্থ কাকলি ঘোষ দস্তিদার
May 28, 202611:12 am

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে। বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবার দলীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ও অপমানের অভিযোগ নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়েছেন।
চিঠির মূল বিষয়বস্তু:
- অভিযোগ: সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেছেন যে, সংসদের ভিতরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার তাঁকে এবং অন্যান্য মহিলা সাংসদদের মৌখিকভাবে অপমান করেছেন। তিনি এই ধরনের আচরণকে নারীবিদ্বেষী এবং অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছেন।
- স্পিকারের কাছে আবেদন: কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চেয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক অস্বস্তি:
- পদত্যাগ ও দূরত্ব: গত ১৫ মে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে সেই পদে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই কাকলি দেবী দলের বিভিন্ন পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বারাসাত সংসদীয় জেলা তৃণমূলের সভাপতি এবং মহিলা তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন।
- দলীয় সংকট: অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত—দুজনেই একই দলের সাংসদ হওয়ায় এই চিঠি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
- সাম্প্রতিক ঘটনা: রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি এবং তার পরেই তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে বেশ জটিল করে তুলেছে।
স্পিকারের কাছে এই ধরণের অভিযোগ দায়েরের ঘটনাটি তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ও বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।