ঘাসফুলেও এবার চুরির দাগ! তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে প্রবীণ শিল্পীর বিস্ফোরক দাবি

ঘাসফুলেও এবার চুরির দাগ! তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে প্রবীণ শিল্পীর বিস্ফোরক দাবি

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিশ্বস্ত প্রতীক ‘জোড়াঘাসফুল’ নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন ৬৮ বছর বয়সী প্রবীণ শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শাসক দলের এই পরিচিত প্রতীকটি আসলে তাঁরই সৃষ্টি, যা পরবর্তীতে কোনো রকম স্বীকৃতি ছাড়াই ব্যবহার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নেপথ্যের ইতিহাস এবং বঞ্চনার অভিযোগ

শিল্পী সোমনাথ চৌধুরীর দাবি অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে তৎকালীন প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা অজিত পাঁজার অনুরোধে তিনি এই লোগোটি এঁকেছিলেন। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হলে এই জোড়াঘাসফুলকেই দলের অফিসিয়াল প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। প্রবীণ এই শিল্পীর আক্ষেপ, টেলিভিশনের পর্দায় নিজের আঁকা প্রতীকটি দেখে একদিকে যেমন তাঁর আনন্দ হয়েছিল, অন্যদিকে তেমনই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা কৃতিত্ব না পাওয়ায় আজীবন এক গভীর বঞ্চনার শিকার হয়েছেন তিনি। এতদিন কেন মুখ খোলেননি, এমন প্রশ্নের উত্তরে শিল্পী জানান যে, মূলত ভয় ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই তিনি বিগত বছরগুলোতে নীরব ছিলেন।

সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘদিন পর তোলা এই অভিযোগ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যখন কোনো দলের প্রতীক তার মূল ভাবমূর্তি ও পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে, তখন এমন বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্ব চুরির অভিযোগ নৈতিকতার প্রশ্নে দলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। তবে এই দাবিকে কেন্দ্র করে এখনো তৃণমূল কংগ্রেস বা অজিত পাঁজার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। শেষ বয়সে এসে এই প্রবীণ শিল্পীর ক্ষোভ ও বঞ্চনার লড়াই শেষ পর্যন্ত কী রূপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *