কারাগার নয়, যেন অতিথি নিবাস, মালদার হোল্ডিং সেন্টারে যত্নের রূপরেখা

কারাগার নয়, যেন অতিথি নিবাস, মালদার হোল্ডিং সেন্টারে যত্নের রূপরেখা

মালদহের ইংলিশবাজার শহর সংলগ্ন বাগবাড়ির চন্দনপার্কে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে একটি অত্যাধুনিক হোল্ডিং সেন্টার। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশকারী বাংলাদেশিদের সাময়িকভাবে রাখার জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। একটি পুরনো পাকা ভবনকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংস্কার করে তৈরি এই সেন্টারে বর্তমানে তিনজন মহিলা ও ছয়জন শিশু-কিশোরসহ মোট নয়জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের জন্য সেখানে যে ধরনের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে, তা বর্তমানে সর্বস্তরের নজর কাড়ছে।

সুখাদ্য ও আরামদায়ক আবাসন

হোল্ডিং সেন্টারে আশ্রিতদের রাত্রিযাপন আরামদায়ক করতে প্রতিটি ঘরে একাধিক সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দৈনিক খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। বন্দোবস্ত অনুযায়ী প্রতিদিনের মেনুতে ভাত, রুটি, মাছ, মাংস ও ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি, যার অংশ হিসেবে শিশুদের জন্য দিনে চারবার দুধ এবং প্রয়োজনীয় বেবি ফুডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। খাবারের পাশাপাশি আশ্রিতদের ব্যবহারের জন্য নতুন পোশাক, স্নানের সাবান ও শ্যাম্পুও সরবরাহ করা হয়েছে। পুরো ব্যবস্থার রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে।

কড়া নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়া

মানবিকতার পাশাপাশি এই কেন্দ্রের সুরক্ষায় কোনো আপস করা হয়নি। গোটা চত্বরজুড়ে রয়েছে ত্রিস্তরীয় কড়া নিরাপত্তা বলয়। তিনজন পুলিশ আধিকারিক, এক ডজনেরও বেশি পুলিশ কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সার্বক্ষণিক পাহারায় নিযুক্ত রয়েছেন। রাতে পর্যাপ্ত আলোর জন্য হ্যালোজেন লাইট ব্যবহারের পাশাপাশি পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

মালদহের জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, প্রশাসনের তরফ থেকেই এই থাকা-খাওয়ার সমস্ত খরচ ও তদারকি চালানো হচ্ছে। বর্তমানে নতুন করে কাউকে এই সেন্টারে আনা হয়নি। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো মানবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রয়োজন ও নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে আইনি উপায়ে তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *