এবার সম্মুখসমরে তৃণমূলের দুই বর্ষীয়ান সাংসদ, কল্যাণের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির

শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দুই প্রবীণ সাংসদের দ্বন্দ্ব এবার চরম আকার ধারণ করেছে। শ্রীরামপুরের দলীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও অভব্য আচরণের গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কয়েকদিন ধরেই দলের অন্দরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছিল, যা এবার লোকসভার স্পিকারের দরবারে পৌঁছানোয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে অল ইন্ডিয়া মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাঠানো ইস্তফাপত্রেও এক দলীয় সহকর্মীর অশালীন আচরণ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বারাসাতের সাংসদ।
অভিযোগ ও পাল্টা সাফাই
লোকসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেছেন যে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অভব্য আচরণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি একা নন, দলের অন্য মহিলা সাংসদরাও শ্রীরামপুরের এই সাংসদের আচরণের শিকার হয়েছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিকভাবে বাজারে ভেসে থাকার জন্যই কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই ধরণের মনগড়া অভিযোগ করছেন। ছুটির দিনে কীভাবে এই চিঠি পাঠানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ঘটনার নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ কেন উল্লেখ করা হয়নি, সেই বিষয়েও পালটা সওয়াল করেছেন তিনি।
দ্বন্দ্বের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের সূত্রপাত সম্প্রতি কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে। এরপরই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের দুই শীর্ষ নেতার এই প্রকাশ্য বিবাদ দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মহিলা সাংসদের সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি জাতীয় স্তরেও শাসক দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।