মেলোডি চকোলেট উপহারের পরেই নেটদুনিয়ায় জোর জল্পনা, মোদিকে কি সত্যিই আনফলো করেছিলেন মেলোনি?

মেলোডি চকোলেট উপহারের পরেই নেটদুনিয়ায় জোর জল্পনা, মোদিকে কি সত্যিই আনফলো করেছিলেন মেলোনি?

ভারত ও ইটালির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রসায়ন কূটনৈতিক মহলের পাশাপাশি বরাবরই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সমাজমাধ্যমে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জর্জিয়া মেলোনির বন্ধুত্বের সমীকরণকে নেটিজেনরা ভালোবেসে নাম দিয়েছেন ‘মেলোডি’। সম্প্রতি মোদির ইটালি সফর এবং মেলোনিকে ভারতীয় চকোলেট উপহার দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন দুই দেশের অনুরাগীরা উচ্ছ্বসিত, ঠিক তখনই নেটদুনিয়ায় আচমকা ছড়িয়ে পড়ে এক নতুন গুঞ্জন। জল্পনা শুরু হয়, ইটালির প্রধানমন্ত্রী কি ইনস্টাগ্রামে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আনফলো করে দিয়েছেন?

ডিজিটাল দুনিয়ায় হঠাৎ ঝড়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইটালি সফর শেষ করে দেশে ফেরার ঠিক সপ্তাহখানেক পরেই বিষয়টি প্রথম নেটিজেনদের নজরে আসে। মঙ্গলবার দেখা যায়, ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়িং তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম নেই। অথচ অন্য বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতাকে ফলো করছেন তিনি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে মিম ও নানাবিধ জল্পনার বন্যা বয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করতে শুরু করেন, মোদির থেকে ‘মেলোডি’ চকোলেট উপহার পাওয়ার পরেই হয়তো কোনো কারণে মনোমালিন্য হয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের।

এর আগে মোদির ইটালি সফরে মেলোনির হাতে চকোলেটের প্যাকেট তুলে দেওয়ার ভিডিওটি হুহু করে ভাইরাল হয়েছিল। এর জেরে ভারতের বাজারে চকোলেটটির প্রস্তুতকারক সংস্থা পার্লের শেয়ারের দামও একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়। এমন এক সুসম্পর্কের আবহে আচমকা আনফলো করার এই খবরটি স্বভাবতই সবাইকে চমকে দিয়েছিল।

ধোঁয়াশা কাটিয়ে ফলো তালিকায় মোদি

নেটদুনিয়ার এই তুমুল চর্চা ও জল্পনার মাঝেই বৃহস্পতিবার সকালে আবার এক নাটকীয় মোড় দেখা যায়। মেলোনির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁর ফলোয়িং তালিকায় এখন জ্বলজ্বল করছে নরেন্দ্র মোদির নাম। এই পরিবর্তনের পর প্রযুক্তি ও কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দুটি ভিন্ন মত উঠে আসছে। অনেকের মতে, মেলোনি হয়তো আগে মোদিকে ফলো করতেনই না, কিন্তু নেটপাড়ার তুমুল চর্চা নজরে আসার পর তিনি নতুন করে ফলো করেছেন।

অন্যদিকে, একাংশের দাবি এটি কোনো মনোমালিন্য নয়, বরং ইনস্টাগ্রামের কোনো কারিগরি ত্রুটি বা ‘বাগ’-এর ফল হতে পারে। কারণ সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামের প্রযুক্তিগত গোলযোগের কারণে সালমান খান বা হার্দিক পাণ্ডিয়ার মতো তারকাদের অ্যাকাউন্টও সাময়িকভাবে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। মেলোনির অ্যাকাউন্টেও তেমন কিছু ঘটে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই পুরো বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সুযোগ নেই, কারণ ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটিরও বেশি অনুগামী থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে কাউকেই ফলো করেন না। অন্যদিকে মেলোনির অনুগামীর সংখ্যা বর্তমানে ৬৪ লক্ষের কাছাকাছি। আপাতত মোদির নাম পুনরায় মেলোনির তালিকায় ফেরায় ‘মেলোডি’ বিতর্কে আপাতত ইতি পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *