মুখ্যমন্ত্রী হয়েই প্রথমবার মায়াপুরে শুভেন্দু অধিকারী, গোশালায় করলেন বিশেষ যজ্ঞানুষ্ঠান ও গো-সেবা

মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথমবার নদীয়ার মায়াপুর সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ইসকনের সন্ন্যাসীরা তাঁকে পুষ্পমাল্য পরিয়ে এবং তিলক কেটে ঐতিহ্যবাহী উপায়ে স্বাগত জানান।
বিশেষ যজ্ঞানুষ্ঠান ও গো-সেবা
মায়াপুরে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি ইসকন মন্দিরের মূল চত্বরে যান এবং সেখানে আয়োজিত একটি বিশেষ যজ্ঞানুষ্ঠানে অংশ নেন। রাজ্যের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় এই যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। যজ্ঞানুষ্ঠান শেষে শুভেন্দু অধিকারী ইসকনের নিজস্ব গোশালায় যান। সেখানে তিনি সম্পূর্ণ সনাতন রীতি মেনে গোমাতার পা ধুয়ে দিয়ে বিশেষ পুজোয় বসেন। পুজো শেষে নিজ হাতে গোমাতাকে খাবার খাইয়ে গো-সেবা করেন তিনি। এই ধর্মীয় আচার ও পুজো চলাকালীন তাঁর পাশে ইসকনের প্রবীণ সন্ন্যাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথম সফরেই মায়াপুরের মতো আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক কেন্দ্রকে বেছে নেওয়ার পেছনে একটি গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। এর মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সনাতন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা পুনরুল্লেখ করলেন। একই সঙ্গে গো-সেবা এবং যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজের একটি বড় অংশের মানুষের আবেগকে স্পর্শ করার পাশাপাশি রাজ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি, যা আগামী দিনে তাঁর প্রশাসনের নীতি ও ভাবমূর্তি গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।