তীব্র গরমে রোজ ডিম খাচ্ছেন? হতে পারে বড় বিপদ, জানুন খাওয়ার সঠিক সময়

তীব্র গরমে ডিম খাওয়ার অভ্যাসে সতর্কতা, হজমের সমস্যা এড়াতে মেনে চলুন বিশেষ নিয়ম
চলমান প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিমের ব্যবহার নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রীষ্মের এই অসহনীয় গরমে ডিম খাওয়ার সময় এবং পরিমাণ নিয়ে সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে হজমের সমস্যাসহ শারীরিক অস্বস্তি।
কেন সকাল ৯টার পর ডিম খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ?
ডিম প্রোটিন ও ফ্যাটে ভরপুর একটি খাবার। প্রোটিন হজম করতে শরীরের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘থার্মিক এফেক্ট অফ ফুড’ (TEF)। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। সকাল ৯টার পর যখন বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে, তখন এই সময়ে ডিম খেলে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের তাপমাত্রার সমন্বয়ে হজম প্রক্রিয়ার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ ও করণীয়
গরমে সুস্থ থেকে ডিমের পুষ্টি পেতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি:
- উপযুক্ত সময়: গ্রীষ্মকালে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই প্রাতরাশ হিসেবে ডিম খেয়ে নেওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। এই সময় আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকায় শরীর সহজেই প্রোটিন হজম করতে পারে।
- ডিমের কুসুম ও পরিমাণ: এই চড়া গরমে অতিরিক্ত ডিমের কুসুম খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে থাকা ফ্যাট শরীরে তাপ উৎপন্ন করে। দৈনিক ১ থেকে ২টি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না থাকলে এর বেশি না খাওয়াই শ্রেয়।
- জলের গুরুত্ব: প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়ার পর বিপাক ক্রিয়ার ফলে তৈরি হওয়া বর্জ্য শরীর থেকে বের করে দিতে কিডনির প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। তাই ডিম খাওয়ার পর সারাদিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করা বাধ্যতামূলক। পর্যাপ্ত জল না খেলে ডিহাইড্রেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাতরাশ চড়া রোদ ওঠার আগেই সেরে ফেলা এবং পর্যাপ্ত জল পানের অভ্যাসই এখন সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।