ক্ষমতার দাপট চূর্ণ, দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতারা গ্রেপ্তার হতেই পুলিশকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা গ্রামবাসীদের

ক্ষমতার দাপট চূর্ণ, দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতারা গ্রেপ্তার হতেই পুলিশকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা গ্রামবাসীদের

রাজ্যে সরকার বদল হতেই দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা ভাঙতে শুরু করেছে প্রশাসন। আলিপুরদুয়ারে একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতা পুলিশি জালে বন্দি হতেই খুশির হাওয়া এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির রাজত্ব ও দাপটের অবসান ঘটায় উচ্ছ্বসিত গ্রামবাসীরা শেষ পর্যন্ত থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানিয়েছেন।

কোটি টাকার তছরুপ ও টাওয়ার বসানোর কাটমানি

তৃণমূল জমানায় আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের মাঝের ডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন তৃণমূল নেতা মানস রায়ের স্ত্রী বুবুন রায়। অভিযোগ, স্ত্রীকে সামনে রেখে বকলমে সমস্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করতেন তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির তৎকালীন যুব সহ সভাপতি মানস রায়। ১০০ দিনের কাজ, মুরগির পোল্ট্রি ফার্মের শেড নির্মাণ, বাগান তৈরি ও টিউবওয়েল বসানো সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে কাজ না করেই প্রায় ১০ কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। পঞ্চায়েত কর্মীদের একাংশের সহযোগিতায় এই বিপুল অর্থ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরানো হয়।

অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের বিবেকানন্দ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য বিক্রম বর্মনের বিরুদ্ধে মোবাইল টাওয়ার বসানোর নাম করে ঘুষ বা কাটমানি নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। বুধবার রাতে উত্তরজিতপুর এলাকার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ।

পুলিশি সক্রিয়তায় স্বস্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আসা এই নেতাদের বিরুদ্ধে পূর্বতন সরকারের আমলে কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ জমছিল। নতুন সরকারের আমলে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা কাটতেই মাঝের ডাবরি এলাকার বাসিন্দারা শামুকতলা থানায় হাজির হয়ে পুলিশকে অভিনব উপায়ে ধন্যবাদ জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কড়া পুলিশি অভিযান গ্রামীণ স্তরে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনবে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা এতদিন পার পেয়ে যাচ্ছিল, এই গ্রেপ্তারির ফলে তাদের ওপর বড়সড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে পঞ্চায়েত স্তরে আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশের যোগসাজশে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি শিকড় গেড়েছিল, তা উপড়ে ফেলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *