সীমান্তে নয়া সমীকরণ: ‘উধাও’ তৃণমূল, বিএসএফ-এর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথে নামল পুলিশ

সীমান্তে নয়া সমীকরণ: ‘উধাও’ তৃণমূল, বিএসএফ-এর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথে নামল পুলিশ

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হাকিমপুর ও পার্শ্ববর্তী স্বরূপনগর অঞ্চলে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে এই সীমান্ত এলাকার পরিবেশ এবং অনুপ্রবেশকারীদের ফিরে যাওয়ার পদ্ধতিতে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা ও সমন্বয়ের নতুন ছবি

হাকিমপুর সীমান্তে এখন পুলিশ ও বিএসএফ-এর মধ্যে এক অভূতপূর্ব সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। গত বছর নভেম্বরে যখন বিএসএফ একাই সীমান্ত পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিল, তখন রাজ্য পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রায় অদৃশ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এসডিপিও-র মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে এখন আর কেবল বিএসএফ-এর ওপর নির্ভরশীল না থেকে, পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে নথিপত্র পরীক্ষা ও নজরদারি চালাচ্ছে।

হোল্ডিং সেন্টারের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা

অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি সীমান্তের দিকে না পাঠিয়ে রাজ্য সরকার নির্ধারিত অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বরূপনগরের তিনটি কেন্দ্রে—তেঁতুলিয়ার ‘পথের সাথী’, চারঘাট হাইস্কুল এবং মেদিয়ার স্কুলে—আটক অনুপ্রবেশকারীদের থাকা ও খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, আশা কর্মী ও বিডিও অফিসের সহায়তায় এই কেন্দ্রগুলি পরিচালিত হচ্ছে। মিড ডে মিল কর্মীরা রান্নার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরাও এই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও আতঙ্ক

অনুপ্রবেশকারীদের ফিরে যাওয়ার কারণ ও পরিস্থিতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও, বর্তমানে ‘বুলডোজার’-এর ভয়ে এবং বাড়িওয়ালাদের কড়া নির্দেশে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের তল্লাশি অভিযান ও বস্তি এলাকা থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কায় অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

তৃণমূলের অনুপস্থিতি

হাকিমপুর সীমান্তে নজরদারি ও ব্যবস্থাপনায় গত ছয় মাস আগে যে তৃণমূল নেতাদের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা গিয়েছিল, তা এখন সম্পূর্ণ উধাও। সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা, তাদের থাকা-খাওয়া বা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে যে নিয়ন্ত্রণ আগে দেখা যেত, তা বর্তমানে আর নেই। স্থানীয় পঞ্চায়েত বোর্ড একই দলের দখলে থাকা সত্ত্বেও, অতীতের সেই তৎপরতা বা প্রভাব এখন আর কোথাও দৃশ্যমান নয়।

এক কথায়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর হাকিমপুর সীমান্ত এখন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার বাস্তবতার সাক্ষী হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *