শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুখেন্দুশেখর, রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা

শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুখেন্দুশেখর, রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে চলে এল। আরজি কর কাণ্ড থেকেই দলের প্রকাশ্য সমালোচনা করে আসছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। এবার সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দিলেন তিনি। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুখেন্দুশেখর স্পষ্ট জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলন শুভেন্দু অধিকারী না থাকলে কোনোভাবেই সফল হতো না। তাঁর এই মন্তব্য শাসক শিবিরের অস্বস্তি যেমন বাড়িয়েছে, তেমনই বিরোধী শিবিরের হাত শক্ত করেছে।

শুভেন্দুর নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা

শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সুখেন্দুশেখর রায় জানান, শুভেন্দুর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যে সমস্ত কাজ করছে, তাতে বাংলার জনগণ অত্যন্ত খুশি এবং সরকার সঠিক পথেই চলছে। শুভেন্দুর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, শুভেন্দু অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন নেতা যিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেন। অতীতে সিপিএমের অত্যাচারের সময়েও শুভেন্দু তৃণমূলের ঘরছাড়া কর্মীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে তিনি স্মরণ করেন। অধিকারী পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে বর্ষীয়ান এই সাংসদ শুভেন্দুর পিতা শিশির অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ৪০ বছরের সুদীর্ঘ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।

দলের অন্দরে ক্ষমতার টানাপোড়েন ও ক্ষোভ

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমীকরণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সুখেন্দুশেখর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, একটি দলে কখনও দুটি ‘পাওয়ার সেন্টার’ বা ক্ষমতার কেন্দ্র থাকা উচিত নয়, যা অতীতে কংগ্রেসেরও ক্ষতি করেছিল। একই সঙ্গে নিজের দলে কোণঠাসা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, তৃতীয়বার রাজ্যসভায় তাঁর মনোনয়নের সময়ে দল থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণে তা সফল হয়নি।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

কয়েকদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ‘অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান’ ঘটেছে বলে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন এই তৃণমূল সাংসদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর সুখেন্দুশেখরের এই অবস্থান তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটলের বহিঃপ্রকাশ। একদিকে দলের ‘ডবল পাওয়ার সেন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা, অন্যদিকে বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর কাজের ধারাকে সার্টিফিকেট দেওয়া— সব মিলিয়ে সুখেন্দুশেখরের এই ভূমিকা বাংলার সমকালীন রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা শাসক দলকে আগামী দিনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *