বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা, জাপানে নিষিদ্ধ হলো ভারতের সুস্বাদু আম!

বিশ্বজুড়ে ভারতের আমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এবার এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের বাজারে নিষিদ্ধ হয়ে গেল ফলের রাজা। ভারতের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে বেশ কিছু অনিয়ম খুঁজে পাওয়ার দাবি তুলে এই আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে টোকিও। জাপানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভারতীয় আম রপ্তানিকারকেরা।
যে কারণে মুখ ফেরাল জাপান
প্রতি বছর ভারত থেকে আম আমদানির আগে জাপানের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ দেশে এসে ‘ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (ভিএইচটি) পরীক্ষা নিরীক্ষা করে। এটি একটি সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত পদ্ধতি, যা গরম বাষ্পের সাহায্যে আমকে ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ থেকে মুক্ত রাখে। সম্প্রতি জাপানের এই বিশেষজ্ঞ দলটি উত্তর প্রদেশের রেহমানপুরের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করে। অভিযোগ উঠেছে, সেখানকার জীবাণুনাশ এবং জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি ও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছেন সে দেশের বিশেষজ্ঞরা। এর জের ধরেই জাপান সরকার ভারত থেকে আম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ মার্চের পর ভারত থেকে পাঠানো কোনো আম গ্রহণ করছে না জাপান। ফলে সে দেশের বাজারে এবার মিলছে না ভারতের বিখ্যাত আলফনসো, কেশর, ল্যাংড়া বা বাণগনপল্লীর মতো জনপ্রিয় জাতের আম।
রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা এবং সিঙ্গাপুর সংযোগ
চলমান পশ্চিম এশিয়া সংকটের কারণে এমনিতেই ভারতের ফল রপ্তানি বাণিজ্য চাপের মুখে রয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পতন লক্ষ্য করা গেছে। তার ওপর জাপানের এই নিষেধাজ্ঞা রপ্তানিকারকদের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলল। তবে জাপানের বাজারে আমের প্রবেশ বন্ধ হলেও সিঙ্গাপুরে ভারতীয় আমের চাহিদা তুঙ্গে। সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, সে দেশের সুপারমার্কেটগুলোতে ভারতীয় আম আসার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ বর্ষে ভারতে রেকর্ড ২২৮.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, বিহার, কর্নাটক এবং গুজরাটের মতো রাজ্যগুলোতে উৎপাদিত এই আমগুলো অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। তবে জাপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে গুণগত মানের প্রশ্নে এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের আম রপ্তানি বাণিজ্যে সাময়িকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।