রেলযাত্রীদের পকেটে এবার বড় টান, জুনের শুরু থেকেই বাড়ছে স্টেশনের খাবারের দাম!

ট্রেনে দূরপাল্লার সফর হোক কিংবা লোকাল ট্রেনের দৈনন্দিন যাতায়াত, খিদে মেটাতে স্টেশনের খাবারের ওপর ভরসা করেন না এমন যাত্রী মেলা ভার। তবে আগামী মাস থেকেই স্টেশনে মুখরোচক খাবারে কামড় দেওয়ার আগে পকেটের দিকে একটু বাড়তি নজর দিতে হবে যাত্রীদের। ভারতীয় রেলের সেন্ট্রাল রেলওয়ে শাখার অধীনস্থ স্টেশনগুলিতে ছোট স্টলে বিক্রি হওয়া একগুচ্ছ খাবারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকেই এই নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর হতে চলেছে।
জনপ্রিয় খাবারের নতুন দাম
নতুন তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সেন্ট্রাল রেলওয়ের স্টেশনগুলিতে ৫০ গ্রাম ওজনের একটি আলু বড়ার দাম পড়বে ১৫ টাকা এবং এর সাথে পাউরুটি নিতে গেলে গুণতে হবে আরও ৫ টাকা। অর্থাৎ, একটি আলু বড়া-পাও খেতে যাত্রীদের মোট ২০ টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়া যাত্রীদের অত্যন্ত পছন্দের ভেজ সামোসা, ভেজ পাফ এবং সাবুদানা বড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা। ভারী খাবারের মধ্যে পাওভাজি এবং ভেজ পিৎজার দাম বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫০ টাকায়। দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ছে। এখন থেকে দুই পিস ইডলি সম্বর ও চাটনি সহ ৩০ টাকা এবং মসালা দোসা ৩৫ টাকায় মিলবে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, মিসল পাও (৩৫ টাকা), কচুরি (১৫ টাকা) এবং ডাবেলির (২০ টাকা) দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
কারণ ও প্রভাব
রেল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং স্টলগুলির পরিচালনগত খরচ সামাল দেওয়ার বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। তবে আকস্মিক এই দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ এবং মধ্যবিত্ত নিত্যযাত্রীদের দৈনিক যাতায়াতের খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে। বিশেষ করে যারা কাজের সূত্রে প্রতিদিন ট্রেনে যাতায়াত করেন এবং স্টেশনের খাবারের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বাজেটে এটি সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
কড়া নজরদারির নির্দেশ
খাবারের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কিছু কড়া নির্দেশিকাও জারি করেছে। নতুন নিয়মে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দাম বাড়ার সাথে সাথে বিক্রেতাদের খাবারের গুণগত মানও নিশ্চিতভাবে উন্নত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন নিম্নমানের খাবার পরিবেশন না করা হয়। একই সাথে যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং কালোবাজারি রুখতে প্রতিটি খাবারের স্টলে নতুন রেটচার্ট বা মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে যাতে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া না হয় এবং খাবারের মান বজায় থাকে, তা যাচাই করতে রেলের পক্ষ থেকে নিয়মিত স্টেশনগুলিতে আকস্মিক পরিদর্শন ও নজরদারি চালানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।