মেডিক্যাল প্রবেশিকায় ফিরবে কি স্বচ্ছতা? নিট ঘিরে এবার সরাসরি পিএমও-র নজিরবিহীন নজরদারি

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানাবিধ অনিয়মের জেরে গত ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর, আগামী ২১ জুনের নিট (NEET-UG 2026) পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে জাতীয় স্তরে। দেশের সবচেয়ে বড় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)। আর কোনও ধরনের গাফিলতি যাতে প্রশ্রয় না পায়, তার জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীর হাত পর্যন্ত পৌঁছনোর পুরো প্রক্রিয়াটি কড়া নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং মোদীর কড়া বার্তা
পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি দিল্লির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে এই গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন এবং প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ের আপডেট নিচ্ছেন। এর আগে অনিয়মের ইঙ্গিত মিলতেই প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নির্দেশে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা স্পষ্ট করে দেয় যে এই পরীক্ষায় কোনও আপস করা হবে না।
২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও নিশ্ছিদ্র সুরক্ষার ছক
আগামী ২১ জুনের পরীক্ষায় দেশজুড়ে প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নিতে চলেছেন। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং মানসিক উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ, পরিবহণ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে বিতরণের প্রতিটি স্তরে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিয়মিত এই প্রস্তুতির পর্যালোচনা করছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে একাধিক সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য একটাই, প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।