সঙ্গীত জগতে কাটমানি রাজ, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক গায়িকা ঋদ্ধি

টাকা দিলে তবেই মিলত সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ, এমনকি সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও চলত চরম তোষামোদ। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সঙ্গীত শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বিরুদ্ধে এমনই এক গুচ্ছ বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সরকারের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাসক শিবিরের অন্দরের ক্ষোভ ও গোষ্ঠী কোন্দল যখন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে, ঠিক তখনই বিনোদন ও সংস্কৃতি জগতের এই বেনজির দুর্নীতি ফাঁসে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে।
অনুষ্ঠানের টাকা থেকে ভাগাভাগি
গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের তির সরাসরি ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর টিমের সদস্যদের দিকে। কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কীভাবে কাটমানি বা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ফেরত চাওয়া হতো, তার বিবরণ দিতে গিয়ে গায়িকা জানান যে শিল্পীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুষ্ঠানের পারিশ্রমিক বাবদ ৭ হাজার টাকা পাঠানো হলে, সেখান থেকে ২ হাজার টাকা ফেরত বা ‘ব্যাক’ করার নির্দেশ দেওয়া হতো। এই আর্থিক লেনদেন ও কাটমানি চাওয়ার প্রক্রিয়াটি ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি সরাসরি পরিচালনা করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি। সঙ্গীত মেলা সহ বিভিন্ন সরকারি উৎসবে সঙ্গীত শিল্পী ও যন্ত্রী বা মিউজিশিয়ানদের পারিশ্রমিক থেকেও নিয়মিত এইভাবে নির্দিষ্ট অংশ কেটে নেওয়া হতো বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
স্বজনপোষণ ও যোগ্যতার অবমাননা
আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি এই চক্রের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ এবং কাস্টিং কাউচের মতো গুরুতর অভিযোগও এনেছেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, যাঁরা এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর তোষামোদ করতেন বা তাঁদের অনৈতিক শর্তে রাজি হতেন, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তাঁরাই সঙ্গীত মেলায় বড় অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন মিউজিক কলেজে সরকারি চাকরি পেয়েছেন। এর ফলে প্রকৃত প্রতিভাবান ও যোগ্য শিল্পীরা দিনের পর দিন বঞ্চিত হয়েছেন। এই সুসংগঠিত নেক্সাস বা চক্রের কারণে বাংলার সংস্কৃতি ক্ষেত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান যে, এই বিষয়ে মন্তব্য করতেও তাঁর আত্মসম্মানে বাধে।
সাংস্কৃতিক জগতের এই বিবাদ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করতে চলেছে।