দিল্লিতে কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূল বিধায়করা, বাংলায় হারের পর কি বদলে যাচ্ছে সমীকরণ?

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় আলোড়ন তৈরি করেছে। পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে যখন কালীঘাটে দফায় দফায় বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই দলের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন অস্বস্তি। একদিকে দলের পুরনো সৈনিকদের একাংশ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছেন, অন্যদিকে দলের বিধায়কদের দিল্লিতে গিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করার খবর রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি দাবি বাংলার রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি ও তৃণমূলের অন্দরের তৎপরতা
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক ইতিমধ্যে দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৃণমূলের উচিত কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়া। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই দাবিকে কেবল বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখলেও, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সূত্র অন্য কথা বলছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, মালদহ জেলার দুজন সংখ্যালঘু বিধায়ক ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন, যা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বদলে যাওয়া সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হওয়ার পর থেকে দুই দলের সম্পর্ক বরাবরই উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোট গঠিত হলেও এ রাজ্যে দুই দল পরস্পরের তীব্র বিরোধী হিসেবেই লড়াই করেছে। এমনকি জোটের একাধিক বৈঠকও অতীতে এড়িয়ে গেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর এই সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। জানা গেছে, ভোটের ফল প্রকাশের পর রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর তোলা সুরের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে তৃণমূল।
এই বৈঠকের পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রথমত, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর দলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ধরে রাখা এবং নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা নিয়ে বিধায়কদের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া আশঙ্কা। দ্বিতীয়ত, জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসার বাধ্যবাধকতা। তৃণমূলের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে, যেখানে হয়তো বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল সমীকরণ সম্পূর্ণ নতুন রূপ নেবে।