পালাবদলের ধাক্কায় বদলে গেল হাকিমপুর সীমান্ত, তৃণমূল উধাও হতেই সক্রিয় পুলিশ

পালাবদলের ধাক্কায় বদলে গেল হাকিমপুর সীমান্ত, তৃণমূল উধাও হতেই সক্রিয় পুলিশ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুরে। মাত্র ছয় মাস আগের চেনা ছবিটা এখন আমূল বদলে গেছে। গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে যেখানে বাংলাদেশমুখী অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিএসএফ-এর কালঘাম ছুটছিল, আর রাজ্য পুলিশের কোনো দেখাই মিলছিল না, আজ সেখানে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। মাঝরাতেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কিংবা এসডিপিও-র মতো উচ্চপদস্থ কর্তারা সশরীরে সীমান্তে উপস্থিত থেকে তদারকি চালাচ্ছেন।

বদলে গেছে সীমান্ত পারাপারের পদ্ধতি

ছয় মাস আগে অনুপ্রবেশকারীরা নিজেদের ইচ্ছায় সরাসরি বিএসএফ-এর মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ফিরছিলেন। কিন্তু এবার ক্ষমতার হাতবদলের পর কাজের পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। এখন কোনো অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হলেই তাঁকে সরাসরি সীমান্তে না পাঠিয়ে প্রথমে জেলা প্রশাসনের তৈরি অস্থায়ী ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবিরে পাঠানো হচ্ছে। স্বরূপনগরের তেঁতুলিয়ার ‘পথের সাথী’ অতিথিশালা, চারঘাট হাইস্কুলের ফ্লাড শেল্টার এবং মেদিয়ার একটি স্কুলে আপাতত তিনটি হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। বিএসএফ ও পুলিশ যৌথভাবে নথিপত্র যাচাইয়ের পর অনুপ্রবেশকারীদের বাসে করে এই কেন্দ্রগুলিতে নিয়ে আসছে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিডিও অফিসের তত্ত্বাবধানে তাঁদের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র সবুজ সংকেত মিললে পুলিশ তাঁদের পুনরায় সীমান্তে এনে বিএসএফ-এর মাধ্যমে ওপারে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।

বুলডোজারের আতঙ্ক ও শাসকদলের অন্তর্ধান

গত বছর যেখানে অনুপ্রবেশকারীরা এসআইআর আতঙ্কে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ছিলেন, এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের বিভিন্ন বস্তি এবং এলাকা থেকে আসা মানুষেরা জানাচ্ছেন, এবার তাঁরা মূলত বাধ্য হয়েই ফিরে যাচ্ছেন। নতুন সরকার আসার পর বাড়িওয়ালারা আইনি ঝামেলা ও ‘বুলডোজার’ দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার ভয়ে তাঁদের আর আশ্রয় দিতে রাজি হচ্ছেন না। একই সঙ্গে, আগে যেখানে হাকিমপুর চেকপোস্ট চত্বরে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের প্রবল দাপট ও নিয়ন্ত্রণ চোখে পড়ত, এবার সেই ছবি সম্পূর্ণ গায়েব। অনুপ্রবেশকারীদের খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের ওপর নজরদারি করার জন্য কোনো শাসকদলের নেতাকে আর সীমান্তের আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় পঞ্চায়েত বোর্ড আগের অবস্থানে থাকলেও, পুরোনো সেই রাজনৈতিক তৎপরতা এখন পুরোপুরি উধাও। পরিবর্তে স্থানীয় বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যরা প্রশাসনের নির্দেশে মধ্যরাত থেকে সক্রিয় হয়ে হোল্ডিং সেন্টারগুলির পরিকাঠামো গোছানোর কাজ তদারকি করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *