অশান্তি রুখতে দিল্লি পুলিশের মডেলে আধুনিকীকরণ, ১৫ দিনে রিপোর্ট চাইল লালবাজার

অশান্তি রুখতে দিল্লি পুলিশের মডেলে আধুনিকীকরণ, ১৫ দিনে রিপোর্ট চাইল লালবাজার

কলকাতা পুলিশকে আরও আধুনিক এবং শক্তিশালী করে তুলতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শহরে যে কোনো ধরণের অশান্তি রুখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলকাতা পুলিশ বাহিনীকে দিল্লি পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমতুল্য করে তোলার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা একটি উচ্চপর্যায়ের পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (আইপিএস) নীলাঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে লালবাজারে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে কলকাতার সশস্ত্র বাহিনীর ছ’নম্বর ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমিশনার দেবাশিস দাসও রয়েছেন।

সরঞ্জামের তুলনামূলক পর্যালোচনা

লালবাজারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই বিশেষ কমিটির মূল কাজ হবে কলকাতা পুলিশের বর্তমান সাজসরঞ্জাম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির সঙ্গে দিল্লি পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সরঞ্জামের একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা করা। বাহিনীর ভান্ডারে লাঠি, ঢাল, হেলমেট, বর্ম, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও অস্ত্রের পাশাপাশি জলকামান পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সুরক্ষার জন্য যে ধরনের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করেন, কলকাতা পুলিশের পরিকাঠামোকেও সেই মানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। দুই বাহিনীর সরঞ্জামের জোগানে কী কী ফারাক রয়েছে, তা এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

পরিকল্পনার কারণ ও দূরগামী প্রভাব

সম্প্রতি কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় ঘটে যাওয়া তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এই সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। পার্ক সার্কাসের ওই ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের পাথর বৃষ্টির মুখে পড়তে হয়েছিল পুলিশকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীও নামাতে হয়। ভবিষ্যতের এই ধরণের আইনশৃঙ্খলার সংকট যাতে কলকাতা পুলিশ নিজেই দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই আগাম প্রস্তুতি। এই আধুনিকীকরণ সফল হলে শহরের যেকোনো বড় ধরনের অশান্তি মোকাবিলায় বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। কমিটির দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই লালবাজার পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *