নয়না-বাহারুলের পর এবার কুণাল ঘোষ! বিধানসভায় সই কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিগত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের ওপর সিআইডি (CID) চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বিধানসভায় বিরোধী দলের রেজলিউশনে সই ও তারিখ নিয়ে তৈরি হওয়া চরম বিভ্রান্তি ও ‘সই কেলেঙ্কারি’র তদন্তে এবার বেলেঘাটার হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে হানা দিল সিআইডি-র একটি বিশেষ টিম। চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের পর কুণাল ঘোষ হলেন তৃতীয় তৃণমূল বিধায়ক, যাঁর দুয়ারে পৌঁছাল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা।
তদন্তকারীদের সঙ্গে দেখা হয়নি কুণালের, দেওয়া হলো নোটিস
আইনি ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বিধানসভার প্রধান সচিবের দায়ের করা একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই জালিয়াতি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু করেছে সিআইডি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই বুধবার বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষের বাসভবনে যান তদন্তকারীরা। তবে সিআইডি টিম যখন তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না তৃণমূল বিধায়ক। পূর্ব নির্ধারিত অন্য একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি কলকাতার বাইরে ছিলেন।
বিধায়কের অনুপস্থিতির কারণে সিআইডি আধিকারিকেরা তাঁর পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় আইনি নোটিস ও নথি দিয়ে এসেছেন বলে খবর। তবে সিআইডি সূত্রে দাবি, তদন্তকারীরা বাড়ি থেকেই ফোনে কুণাল ঘোষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। বেলেঘাটার বিধায়কও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এই মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিজে দেখা করে নিজের বক্তব্য জানাবেন।
নয়নার বাড়িতে হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট, ঘনীভূত হচ্ছে সই-তারিখের রহস্য
এই সই কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তের গভীরতা কতটা, তা স্পষ্ট হয়েছে এই ঘটনার ঠিক আগেই চৌরঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি হানার ধরণ দেখে। নয়না দেবীর বাড়িতে সিআইডি-র গোয়েন্দারা একা যাননি, তাঁরা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ফরেনসিক হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট বা হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞকে। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সইয়ের নমুনা সংগ্রহ ও নথির চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন বিশেষজ্ঞরা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
তৃণমূল পরিষদীয় দল সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের পর প্রথম দিন তৃণমূলের যে বৈঠক হয়েছিল, সেই বৈঠকের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামের সপক্ষে বিধানসভায় একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এর পরই বিধানসভা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক রেজোলিউশন চাওয়া হয়। সেই সময় তৃণমূলের তরফ থেকে রেজোলিউশন সহ ৭০ জন বিধায়কের সই ও তারিখ সম্বলিত একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ, এই ৭০ জনের তালিকার মধ্যে বেশ কয়েকজন বিধায়কের সই ও সেখানে উল্লিখিত তারিখের মধ্যে মারাত্মক গড়মিল ও জালিয়াতি রয়েছে। বিরোধী দলের আনা রেজলিউশনে কীভাবে এই বিভ্রান্তি তৈরি হলো, তা জানতেই একের পর এক তৃণমূল বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের ক্ষমতা বদলের পর এই সই বিতর্ক তৃণমূলের পরিষদীয় দলের অন্দরে বড়সড় আইনি জটিলতা তৈরি করতে চলেছে।