ছবি তুলে পাঠালেই জঞ্জাল সাফ, রাজ্যে কাল থেকেই চালু হচ্ছে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’

রাজ্যের পুর এলাকাগুলিকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত করতে এক অভিনব প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। নাগরিক পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতাকে সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিতে কাল, শনিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে নতুন ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ১০টি পুরসভায় পরীক্ষামূলকভাবে এই অ্যাপের মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। উন্নত ও আধুনিক বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগে এবার প্রযুক্তিকেই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সঙ্গী করতে চাইছে প্রশাসন।
অ্যাপের কার্যকারিতা ও নাগরিক সুবিধা
নতুন এই ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর মাধ্যমে পুর এলাকার বাসিন্দারা পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, রাস্তাঘাটে জমে থাকা আবর্জনার ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করলেই সরাসরি অভিযোগ দায়ের করা যাবে। নাগরিকদের এই পুর-পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা চালানো হবে। রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা এবং আবর্জনা পরিষ্কারের মতো মৌলিক নাগরিক সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানে এই অ্যাপ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সচেতনতার সুযোগ ও জরিমানার কড়াকড়ি
রাজ্যকে পরিচ্ছন্ন রাখার এই মহৎ উদ্দেশ্যে সরকার এখনই কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় যাচ্ছে না। পুরমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী আগস্ট মাস থেকে রাজ্যজুড়ে তিন মাসব্যাপী একটি ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। এই সময়ের মধ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে প্রতি ১০০ মিটার দূরত্বে ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। তবে সচেতনতার এই সময়সীমা পার হওয়ার পর, আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে স্বচ্ছতা সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙলেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তখন যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা, থুতু কিংবা পানের পিক ফেললে নাগরিকদের মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে।
পরিবেশ ও নাগরিক জীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির এমন ব্যবহার নাগরিক সমাজকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। সরাসরি ছবি তুলে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থার কারণে একদিকে যেমন পুরসভার কাজে স্বচ্ছতা ও গতি আসবে, অন্যদিকে নাগরিক ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। তবে এই অভিযানের মূল সাফল্য নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুর কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিকতার ওপর। পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানার নিয়ম কার্যকর হলে শহরের যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের পরিবেশগত মানোন্নয়নে এক বড় মাইলফলক হতে পারে।