পাহাড়ে শিক্ষক কেলেঙ্কারি, সিবিআই তদন্তে সবুজ সংকেত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) মাধ্যমে পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগে এবার সিবিআই তদন্তের রাস্তা পরিষ্কার হলো। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে পাহাড়ের স্কুলগুলোতে হওয়া এই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এবার আইনি জট কাটল রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে। আজ, শুক্রবার নবান্নে পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই ছাড়পত্রের কথা ঘোষণা করেন। এর ফলে পাহাড়ের শিক্ষক কেলেঙ্কারির তদন্তভার পুরোদমে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো প্রশাসনিক বাধা রইল না।
আইনি জট কেটে তদন্তের নির্দেশ
পূর্বতন সরকারের আমলে জিটিএ-র অধীনে ৪০০-রও বেশি শূন্যপদে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এবং বেআইনি উপায়ে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছিল। কলকাতা হাই কোর্ট এই দুর্নীতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলেও, তৎকালীন রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সেই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে রেখেছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার এই আইনি মামলা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সিবিআই তদন্তের আইনি জট পুরোপুরি কেটে গেল।
দুর্নীতির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তের সূত্র ও মামলাকারীদের দাবি অনুযায়ী, সম্পূর্ণ নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, কোনো রকম যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই এই ৪০০-রও বেশি পদে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও বিনয় তামাং এবং তৃণমূল যুব নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নাম জড়িয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এবার সিবিআইয়ের আতসকাচের তলায় আসতে চলেছে, যা পাহাড়ের রাজনীতি এবং প্রশাসনিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।