প্যাকেট আটা অতীত, ফের রেশনে মিলবে গম! কপাল খুলছে চাকি মিল মালিকদের

প্যাকেট আটা অতীত, ফের রেশনে মিলবে গম! কপাল খুলছে চাকি মিল মালিকদের

রেশন ব্যবস্থা থেকে অবশেষে বিদায় নিতে চলেছে প্যাকেটজাত আটা। তার পরিবর্তে উপভোক্তারা এবার থেকে সরাসরি গম পাবেন। সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির জোগান বাড়াতে এবং মধ্যবিত্তের হেঁশেলে স্বস্তি ফেরাতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই নতুন মাস্টারস্ট্রোকে যেমন সাধারণ রেশন গ্রাহকেরা খুশি, তেমনই খুশের হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে গম ভাঙানোর মিল বা ফ্লাওয়ার মিল মালিকদের মধ্যে।

বিগত বেশ কিছু সময় ধরে রেশনে গমের জোগান কম থাকা এবং কেবল চাল বা প্যাকেটজাত আটা দেওয়ার কারণে গম ভাঙানোর মিলগুলির ব্যবসা কার্যত মন্দার মুখে পড়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে রেশনে গম দেওয়া বন্ধ থাকায় বহু মিলের চাকা থমকে গিয়েছিল এবং কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন অসংখ্য শ্রমিক। কর্মচারীদের বেতন দেওয়া পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল মিল মালিকদের পক্ষে। ফলে ঝিমিয়ে পড়া এই চাকি মিল শিল্পে চরম আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছিল।

বন্ধ মিলে ফিরছে জোয়ার ও কর্মসংস্থান

রাজ্য সরকারের নতুন বরাদ্দ অনুযায়ী আবারও রেশনের মাধ্যমে সরাসরি গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসায়, মিল মালিকরা তাঁদের ব্যবসায় সুদিন ফিরে আসার আলো দেখছেন। ইতিমধ্যেই বহু বন্ধ মেশিনে ধুলো ঝেড়ে নতুন করে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধুমাত্র মিল মালিকরাই নন, বিপুলভাবে উপকৃত হবেন মিলের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকেরা। বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েক হাজার আটা চাকি মিলের চাকা ফের সচল হওয়ায় নতুন করে বহু মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হতে চলেছে।

গ্রাহকদের পকেটের ওপর চাপ কমবে

বর্তমান খোলা বাজারে আটার দাম যেভাবে আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে, তাতে রেশনের এই গম সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমাবে বলে মনে করছেন উপভোক্তারা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই প্রায় ৯২৫ জন রেশন ডিলার এবং ৫৩ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি উপভোক্তা রয়েছেন। যার মধ্যে এএওয়াই, পিএইচএইচ এবং এসপিএইচএইচ ক্যাটাগরির গ্রাহকেরা আগে রেশনে আটা পেতেন, তাঁরা এখন থেকে সরাসরি গম পাবেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেশনের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে গম বণ্টনের জন্য সমস্ত রকম প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মিল মালিকদেরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে গমের গুণগত মান সম্পূর্ণ বজায় রেখে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে গম ভাঙানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়। সব মিলিয়ে, সরকারের এই একটি সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের পুষ্টি ও পকেটের সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে তেমনই ঝিমিয়ে পড়া চাকি মিল শিল্পে আবার নতুন করে জোয়ার আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *