লাইনের ঝক্কি এড়িয়ে ঘরের দোরগোড়ায় অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, খুশিতে ডগমগ হিঙ্গলগঞ্জ!
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না সাধারণ মানুষকে। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের বাসিন্দাদের জন্য এমনই এক বড়সড় স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। কোনও রকম হয়রানি ছাড়াই সরাসরি ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। স্বয়ং জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা গ্রামে এসে ফর্ম বিলি করায় এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শোনায় খুশির হাওয়া বইছে গোটা এলাকায়।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ
হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের লেবুখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন দক্ষিণপাড়ায় সম্প্রতি এক বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকার মহিলাদের হাতে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম তুলে দেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়িকা রেখা পাত্র। এদিনের কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও দেবদাস গাঙ্গুলী-সহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। ফর্ম বিতরণের পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকরা সাধারণ মানুষের সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত করেন।
অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর নজরদারি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই উদ্যোগের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, যাতে কোনও যোগ্য ব্যক্তি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। তবে এই প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রকৃত অভাবী মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিধায়িকা রেখা পাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রকৃত গরিব মানুষ যাতে এই যোজনার সুবিধা পান, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে এবং কোনও অনুপ্রবেশকারী যাতে এই প্রকল্পের সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে।
এই কর্মসূচির ফলে গ্রামীণ এলাকায় সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও প্রশাসনিক হয়রানি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পৌঁছে দেওয়া এবং যোগ্য উপভোক্তাদের সরাসরি চিহ্নিত করার এই প্রক্রিয়া দরিদ্র পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনেও হিঙ্গলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই ফর্ম বিলির কর্মসূচি চালু থাকবে।