ভারত-বাংলাদেশ সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হওয়ার বার্তা স্বামী পূর্ণাত্মানন্দের

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হবে বলে আশাপ্রকাশ করলেন ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ। শুক্রবার ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার সাব্রুমে নবনির্মিত ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (ICP) এবং ফেনী নদীর ওপর গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক ‘মৈত্রী সেতু’ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মৈত্রী সেতু ও সাব্রুম চেকপোস্ট পরিদর্শন
প্রতিনিধিদল সূত্রের খবর, শুক্রবার স্বামী পূর্ণাত্মানন্দের নেতৃত্বে মঠের সন্ন্যাসীদের একটি বিশেষ দল সাব্রুম সীমান্তে পৌঁছায়। সেখানে দুই দেশের বাণিজ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তৈরি হওয়া ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন তাঁরা। এরপর ভারত ও বাংলাদেশকে যুক্তকারী ফেনী নদীর ওপর নির্মিত ‘মৈত্রী সেতু’ পরিদর্শনে যান মহারাজ। দুই দেশের এই ভৌগোলিক ও আত্মিক মেলবন্ধনকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই ধরনের পরিকাঠামো শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্র নয়, দুই বাংলার মানুষের সংস্কৃতির আদানপ্রদানকেও আরও সহজ করে তুলবে।
ত্রিপুরার সঙ্গে পুরনো আত্মিক টান
উল্লেখ্য, স্বামী পূর্ণাত্মানন্দের এই ত্রিপুরা সফর রাজ্যের ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। এর আগে, বিগত ২০০২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক দশক তিনি ত্রিপুরার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এবং বিবেকনগরস্থিত ঐতিহ্যবাহী রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন। ফলে ত্রিপুরার শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক চেতনার প্রসারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘদিন পর রাজ্যে ফিরে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর এই ঐতিহাসিক অগ্রগতি দেখে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। মঠের সন্ন্যাসীদের এই সীমান্ত সফর দুই দেশের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক স্তরে এক নতুন সম্প্রীতির বার্তা দিল বলে মনে করছেন ভক্তমহল।