কাঁচরাপাড়ার স্কুলে ফের টাকার পাহাড়, সুবোধ-কমলের সরানো অর্থ উদ্ধারের বিস্ফোরক দাবি বিধায়কের!

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার হারনেট ইংলিশ মিডিয়াম হাই স্কুলে ফের বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করল পুলিশ। গত ১০ই জুন এই একই স্কুল থেকে ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা উদ্ধারের পর, এবার গতকাল রাতে নতুন করে আরও ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে বীজপুর থানার পুলিশ। একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দফায় দফায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক শোরগোল তৈরি হয়েছে।

ধৃতদের জেরা করে মাঝরাতে পুলিশের মেগা অভিযান

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ই জুন স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছিল। গতকাল রাতে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জেরা করার সময় বেশ কিছু গোপন ও চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পান তদন্তকারীরা।

অভিযানের মূল বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

  • মধ্যরাতে হানা: ধৃতদের বয়ান ও তথ্যের সূত্র ধরে গতকাল গভীর রাতে বীজপুর থানার পুলিশ নতুন করে কাঁচরাপাড়ার ওই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে দ্বিতীয় দফার হানা দেয়।
  • টাকা উদ্ধার: তল্লাশি প্রক্রিয়াকালে ধৃতদের সশরীরে উপস্থিত রেখে তাদের দেখানো গোপন ডেরা থেকেই নতুন করে এই ৮ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে ওই স্কুল থেকে মোট নগদ উদ্ধারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা।

২০২২ সালের সিবিআই রেডের টাকা! বিস্ফোরক দাবি বীজপুরের বিধায়কের

স্কুল থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসতেই বীজপুরের বিধায়ক এক অত্যন্ত বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, এই স্কুলে যদি আরও ভালো করে তল্লাশি চালানো হয়, তবে আরও অনেক লুকোনো টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

বিধায়কের দাবি অনুযায়ী এই বিপুল অর্থের পেছনের আসল উৎস:

  • ২০২২ সালের সিবিআই হানা: গত ২০২২ সালে শাসকদলের নেতা কমল অধিকারী এবং সুবোধ অধিকারীর বাড়িতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI) জোরদার তল্লাশি অভিযান বা রেড চালিয়েছিল।
  • টাকা সরানোর ছক: বিধায়কের দাবি, সেই সময় সিবিআই-এর হাত থেকে নিজেদের কালো টাকা বাঁচাতে সুকৌশলে বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সরিয়ে এই স্কুলের ভেতরে এনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

এই ঘটনার পেছনে আর কোনও বড়সড় চক্র জড়িয়ে রয়েছে কিনা এবং এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা কার নির্দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের আরও জেরা করছে বীজপুর থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *