১০ মিনিটের ‘গ্যাপ’-ই কাল, সীমান্ত পেরোনোর অশুভ খেলা ফাঁস

১০ মিনিটের ‘গ্যাপ’-ই কাল, সীমান্ত পেরোনোর অশুভ খেলা ফাঁস

সীমান্তে কড়াকড়ি ও কঠোর নীতি, গাট্টি-বোঁচকা গুটিয়ে নিজ দেশে ফিরছেন অনুপ্রবেশকারীরা!

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে গৃহীত ‘ডিটেক্ট-ডিটাইন-ডিপোর্ট’ বা শনাক্তকরণ, আটক ও প্রত্যাবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের ফলে সীমান্ত পরিস্থিতির চিত্র আমূল বদলে গেছে। নতুন এই কঠোর আইনের ভয়ে এখন অবৈধভাবে বসবাসকারী শত শত বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য সীমান্তে ভিড় জমাচ্ছেন। সরকারি নজরদারি ও শাস্তির ভয়ই তাদের এই প্রত্যাবর্তনের মূল কারণ।

অনুপ্রবেশের নেপথ্যে দালাল চক্র ও রাজনৈতিক মদত

সীমান্ত পাড়ি দেওয়া একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, দালালরা সীমান্তের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও বিএসএফ-এর টহলের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখে। নিরাপত্তা বাহিনীর পেট্রোলিংয়ের সময় মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধান পেলেই দালালরা দলে দলে মানুষ পারাপার করায়। এই কাজের জন্য জনপ্রতি সাত হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। তবে অনুপ্রবেশ কেবল সীমান্ত পারাপারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারতে প্রবেশের পর স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মীর সহায়তায় তাদের ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ডের মতো জাল নথি তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অনেক অবৈধ অভিবাসী সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি ভোটাধিকারও প্রয়োগ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রশাসনের কঠোরতায় সংকটে অনুপ্রবেশকারীরা

বর্তমানে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দিলে বাড়ির মালিকদের দুই লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান কার্যকর করা হয়েছে। এই কঠোর আইনের ফলে অনুপ্রবেশকারীরা এখন আর কোথাও আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছেন না। এদিকে সীমান্তে প্রায় ৭৯ শতাংশ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজ্য সরকার বিএসএফ-এর হাতে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমি হস্তান্তর করেছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের করের টাকায় পরিচালিত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন কেবল প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের কাছেই পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা। স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরাপদে সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *