মণিপুরে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারালেন হুগলির লরি চালক, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পরিবার

মণিপুরের উখরুল জেলায় দুষ্কৃতীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে হুগলির ত্রিবেনীর বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী লরি চালক নীতীশ দাসের। শুক্রবার টিএম কাসোম এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় পণ্যবাহী ট্রাকের কনভয় নিয়ে যাওয়ার সময় জঙ্গিরা এলোপাথাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ দশ বছর ধরে মণিপুর ও আসাম রুটে লরি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা নীতীশ দাসের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে হুগলির ২ নম্বর বাসুদেবপুর উমা পল্লীতে।
অনিশ্চয়তায় পরিবারের ভবিষ্যৎ ও চিকিৎসা
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে নীতীশ দাসের স্ত্রী গীতা রানি দাসের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তিনি। লরি চালিয়ে উপার্জিত অর্থের ওপর নির্ভর করেই চলত সংসারের খরচ এবং তাঁর অসুস্থ ছেলের প্যানক্রিয়াটাইটিসের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর সন্তানরা। চিকিৎসা ও সংসারের অন্নসংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। শোকসন্তপ্ত পরিবার এখন সরকারি সহায়তার আশায় দিন গুনছে।
জঙ্গি হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচাঁদ সিং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে কাপুরুষোচিত কাজ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ সচল রাখতে চালকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাঁদের ওপর হামলা মূলত রাজ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়ের ওপর চালানো এই হামলা রাজ্যে উত্তেজনা জিইয়ে রাখার অপপ্রয়াস বলেই মনে করছে প্রশাসন। প্রশাসনের তরফ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।