অভিষেকের কর্মসূচি ঘিরে রহস্যজনক নীরবতা, এড়িয়ে গেলেন খোদ তৃণমূলের তাবড় নেতারা!

অভিষেকের কর্মসূচি ঘিরে রহস্যজনক নীরবতা, এড়িয়ে গেলেন খোদ তৃণমূলের তাবড় নেতারা!

শনিবার বিকেলে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ঘিরে যে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি, তা দলের অন্দরের ফাটলকেই যেন নতুন করে সামনে নিয়ে এল। ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক। অথচ সেই কর্মসূচিতে এলাকার অধিকাংশ তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩৪ জন তৃণমূলের হওয়া সত্ত্বেও অভিষেকের আশপাশে তাঁদের কাউকে দেখা না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের স্থানীয় সাংগঠনিক ভিত নিয়েই।

নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও ধৃতদের পরিচয় নিয়ে চাপানউতর

অভিষেক আসার আগেই পুরসভার অনেক নেতাকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে আসার সাহস দেখাননি। আবার অনেকের ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অভিষেকের ওপর হামলা ও ডিম ছোড়ার ঘটনায় ধৃতদের নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলাকারীদের একাংশ স্থানীয় রাজনীতিতে প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। যদিও লাভলি এই অভিযোগ অস্বীকার করে ধৃতদের বিজেপির লোক বলে দাবি করেছেন। এই টানাপোড়েনের মাঝে বিজেপির পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশই এই হামলা।

এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও সাংগঠনিক সমন্বয়ের অভাব বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কর্মসূচিতে স্থানীয় নেতাদের অনুপস্থিতি এবং ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি শাসক দলের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দুর্বলতাকে নির্দেশ করছে। এই অনভিপ্রেত ঘটনা একদিকে যেমন এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে উসকে দিয়েছে, তেমনই এই হামলার প্রভাব আগামী দিনে সোনারপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *