বিয়ের প্রলোভন নাকি নিঃশব্দ ফাঁদ? ঘর ছাড়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার তরুণীর রহস্যজনক দেহ!

মুর্শিদাবাদ: প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছিলেন তরুণী। কিন্তু মাত্র তিন দিনের মাথায় উদ্ধার হলো তাঁর নিষ্প্রাণ দেহ। বিয়ের অজুহাতে সোনা ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে বিষ খাইয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত তরুণীর নাম আঙুরা খাতুন (নতুন অরঙ্গাবাদ, সুতি)। অভিযুক্ত যুবকের নাম আক্তারুল ইসলাম, যিনি সুতিরই সুলতানপুর আলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সম্পর্কে তিনি মৃতার খুড়তুতো জামাইবাবু।
পরিবারের দাবি, প্রেমের ফাদে ফেলে শালিকাকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন আক্তারুল। কিন্তু বিয়ের পরপরই আসল রূপ প্রকাশ্যে আসে। আঙুরার সঙ্গে থাকা সমস্ত সোনার গয়না ও নগদ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। এরপরই তাঁর ওপর শুরু হয় অমানুষিক শারীরিক অত্যাচার।
ঘর ছাড়ার দু’দিনের মাথায় জঙ্গিপুর এলাকা থেকে উদ্ধার হয় আঙুরার দেহ। পরিবারের অভিযোগ, চরম শারীরিক নির্যাতনের পর তরুণীকে ফেনাইল খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরই সুতি থানায় আক্তারুলের বিরুদ্ধে লিখিত খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সুতি থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান, অভিযোগপত্রে ফিনাইল খাইয়ে খুনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা, তা সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আক্তারুল পলাতক; তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।