দল ভাঙার তীব্র জল্পনা, বিপুল বিধায়কের অনুপস্থিতিতে বাতিল কালীঘাটের মেগা বৈঠক!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আড়াআড়ি বিভাজনের আশঙ্কাকে সত্যি করে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। রবিবারের মেগা বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে উপস্থিত হলেন মাত্র ২০ জন। দলীয় বিধায়কদের বড় অংশের এই সুপরিকল্পিত ‘বয়কট’-এর জেরে শেষপর্যন্ত তড়িঘড়ি বাতিল করতে হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা জরুরি বৈঠকটি। এই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে জুন মাসের শুরুতেই এবার রাজ্যজুড়ে বড়সড় আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেছে শাসক শিবির।
বৈঠক বাতিলের নেপথ্য কারণ
সোনারপুরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পর আগামী দিনে দলের রণকৌশল ঠিক করতে এবং বিধায়কদের মনোভাব বুঝতে এই বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দুপুরের পর ফিরহাদ হাকিম বা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো হাতেগোনা কয়েকজন প্রবীণ নেতা ছাড়া ৮০ শতাংশের বেশি বিধায়ক কালীঘাটের এই বৈঠকে যোগ দেননি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ জন বিধায়কের এই গরহাজিরা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ফোন এড়িয়ে চলার প্রবণতা দলে এক বিরাট ফাটল ধরার বিষয়টিকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। দল ভাঙার আশঙ্কা রুখতে ডাকা বৈঠকটি কার্যত ব্যর্থ হওয়ায় চরম ব্যাকফুটে বিরোধী শিবির।
পাল্টা আন্দোলনের রূপরেখা ও সম্ভাব্য প্রভাব
কালীঘাটের মেগা বৈঠক ভেস্তে গেলেও রাজনৈতিকভাবে জমি ধরে রাখতে তড়িঘড়ি আসরে নেমেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে পালটা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আগামী ১ জুন রাজ্যের প্রতিটি পুর অঞ্চল এবং পঞ্চায়েত এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী হিংসা ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভ দেখাবে তৃণমূল। এর পরদিন, অর্থাৎ ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে সরাসরি ধর্নামঞ্চে বসছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক হিংসার পাশাপাশি কলকাতার রাজপথে হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক জনস্বার্থবাহী ইস্যুকে হাতিয়ার করে এই আন্দোলন পরিচালিত হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়কদের এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের প্রভাব আগামী নির্বাচনে দলের সংগঠনে পড়তে বাধ্য। একদিকে যখন দলের অন্দরের ফাটল মেরামত করা শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, তখন অন্যদিকে জুনের শুরুতেই এই সর্বাত্মক পথ আন্দোলন তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার এবং দলের শক্তি পুনর্গঠনের একটি মরিয়া চেষ্টা।