সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক চাপানউতোর ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি।

হামলার নেপথ্যে কারা এবং ছবির লড়াই

ঘটনার পরই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, সেখানে বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বিক্ষোভকারীদের উস্কানি দিচ্ছিলেন। শাসকদলের প্রশ্ন, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ হলে সেখানে বিরোধী দলের নেতা কী করছিলেন? এর পাল্টা জবাবে বিজেপির পক্ষ থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে দাবি করা হয়, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ। বিজেপির অভিযোগ, এই ঘটনা আসলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। পাল্টা জবাবে তৃণমূল আরও একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে, চিহ্নিত হামলাকারী ব্যক্তি একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী।

তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রভাব

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোনারপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও খতিয়ে দেখে রাতভর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় তাদের যোগসূত্র অস্বীকার করে একে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছে, যা আগামী দিনে দুই দলের সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *