সোমবারই রাজ্য মন্ত্রিসভার বড় সম্প্রসারণ, একযোগে শপথ নিচ্ছেন ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী

সোমবারই রাজ্য মন্ত্রিসভার বড় সম্প্রসারণ, একযোগে শপথ নিচ্ছেন ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের প্রায় এক মাস কেটে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি রাজ্য মন্ত্রিসভা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী সোমবারই হতে চলেছে রাজ্য মন্ত্রিসভার মেগা সম্প্রসারণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই বড় ঘোষণা করেছেন। রাজভবনে আয়োজিত হতে চলা এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মোট ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নেবেন বলে জানা গিয়েছে। সরকারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সঠিক পরিচালনার লক্ষ্যেই এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় মাত্র পাঁচ জন বিধায়ক মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এদের মধ্যে দিলীপ ঘোষ পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। অগ্নিমিত্রা পাল দেখছেন নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব রয়েছে নিশীথ প্রামাণিকের হাতে। এছাড়া অশোক কীর্তনিয়া খাদ্য দফতর এবং ক্ষুদিরাম টুডু অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে সরকারের সিংহভাগ প্রধান দফতরই এখনও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীহীন অবস্থায় রয়েছে।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব বণ্টন না হওয়ায় প্রশাসনিক কাজে কিছুটা শ্লথগতি আসছিল। বর্ষার প্রাক্কালে গ্রামীণ উন্নয়ন, সেচ, স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রের মতো ভারী দফতরগুলোতে স্থায়ী মন্ত্রী নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।

এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে কাজের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যেমন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA) প্রদানের মতো বিষয়গুলোতে আরও দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

নজরকাড়া নামের জল্পনা ও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল

সোমবারের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আলিপুর থেকে রাজভবন পর্যন্ত রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় বিজেপির আদি ও নবাগত মিলিয়ে একাধিক হেভিওয়েট ও বড় নাম ঘোরাফেরা করছে। আঞ্চলিক সমীকরণ এবং লোকসভা ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের কথা মাথায় রেখেই নতুন মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কোন হেভিওয়েট বিধায়ক কোন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে চলেছেন, তা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ও কৌতূহল তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *