ডিজিটাল নিরাপত্তা বিতর্কে অবশেষে ইউ-টার্ন নিল সিবিএসই! অনলাইন মার্কিং পোর্টালে বড়সড় গলদ স্বীকার করল বোর্ড

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিতর্কে অবশেষে ইউ-টার্ন নিল সিবিএসই! অনলাইন মার্কিং পোর্টালে বড়সড় গলদ স্বীকার করল বোর্ড

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই-এর অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) ব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে চলা তীব্র বিতর্কের মাঝে অবশেষে নিজেদের অবস্থান বদল করল বোর্ড। এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি জারি করে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিয়েছে যে, তাদের পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার ওএসএম পোর্টালে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি ছিল। এই মুহূর্তে বোর্ড সেই চিহ্নিত ত্রুটিগুলির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সচেতন নাগরিক ও এথিক্যাল হ্যাকারদের ভূমিকা

এই নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন ১৯ বছর বয়সি এথিক্যাল হ্যাকার নিসর্গ অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, এডব্লিউএস (AWS)-এর একটি স্টোরেজ বালতিতে সংরক্ষিত পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র অনলাইনে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। এর পাশাপাশি, সার্থক সিদ্ধান্ত নামের ১৭ বছর বয়সি এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সিবিএসই-এর টেন্ডার সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত শিথিল করার ফলেই হায়দরাবাদ-ভিত্তিক একটি সংস্থা এই অন-স্ক্রিন মার্কিং প্রকল্পের চুক্তি পেয়েছিল। এই দুই তরুণের বিস্ফোরক দাবি প্রকাশ্যে আসতেই বোর্ডের ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ দল ও বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপ

প্রাথমিক অস্বীকৃতির পর তীব্র চাপের মুখে পড়ে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সুরক্ষার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাধ্য হয়। বোর্ড জানিয়েছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের (আইআইটি) সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, যারা বর্তমানে এই পোর্টালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কাজ করছে। বোর্ডের দাবি, প্রাথমিকভাবে যে সমস্ত দুর্বলতা শনাক্ত করা হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে সিস্টেমে অন্য কোনও সম্ভাব্য ত্রুটি রয়ে গেছে কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের নজরে এই গুরুতর বিষয়টি আনার জন্য সচেতন নাগরিক ও এথিক্যাল হ্যাকারদের আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে সিবিএসই। একই সাথে, ডিজিটাল সিস্টেমে অন্য কোনও গলদ থাকলে তা সরাসরি ইমেলের মাধ্যমে বোর্ডকে জানানোর আহ্বান করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষা বোর্ডের এই ডিজিটাল গাফিলতি দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর গোপনীয়তা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিল, যার স্থায়ী সমাধান হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *