মার্কিন সেনার চোখে ধুলো, হরমুজ প্রণালীতে মিলল ইরানের মারাত্মক বারুদি মাইন্স!

বিশ্বজুড়ে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এক চরম উদ্বেগজনক ও বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। যে মারাত্মক মারণাস্ত্র হন্যে হয়ে খুঁজেও হদিশ পায়নি মহাশক্তিশালী মার্কিন সেনা, এবার খোদ সেই ভয়ঙ্কর অস্ত্রের ছবি জনসমক্ষে চলে এসেছে। কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বা হোরমুজ স্ট্রটে (Strait of Hormuz) দেখা মিলেছে ইরানের পেতে রাখা সামুদ্রিক বারুদি মাইন্সের (Naval Mines)। এই চাঞ্চল্যকর ছবি ফাঁস হতেই ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে তেহরান, সর্বত্র নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। জলতলে ভাসমান এই বিস্ফোরকগুলির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দারা এই ছবির সত্যতা খতিয়ে দেখছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ
এই ছবি সামনে আসতেই ঘুম উড়েছে হোয়াইট হাউসের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লাগাতার হুঙ্কার দিয়ে আসছিলেন যে, যে কোনও মূল্যে হোরমুজ প্রণালীকে মুক্ত এবং নিরাপদ রাখবে আমেরিকা। কিছুদিন আগেই পেন্টাগন দাবি করেছিল, মাইন্স বিছানোর সময় ইরানের কয়েকটি বিশেষ নৌকাকে তারা নিশানা করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু মার্কিন সেনার সেই আত্মবিশ্বাসের বেলুন ফুটো করে দিল এই সদ্য প্রকাশিত ছবি। মার্কিন ফৌজের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে এত বিস্ফোরক সেখানে রয়ে গেল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজগুলির যাতায়াত সুরক্ষিত করতে মার্কিন সেনা অবিরাম নজরদারি চালানো সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটল।
বিশ্ব তেলের বাজারে ওলটপালট হওয়ার আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই হোরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন। গোটা পৃথিবীর একটা বিশাল অংশের তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে পরিবাহিত হয়। ফলে এই এলাকায় সামান্য সামরিক অস্থিরতাও বিশ্ব তেলের বাজারে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, যদি সত্যিই হোরমুজ প্রণালীতে ইরানের পাতা এই বারুদি মাইন্সের উপস্থিতি একশো শতাংশ প্রমাণিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক স্তরে পণ্য পরিবহন এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
যুদ্ধবিরতির আবহেও চরমে তরজা
উদ্বেগের বিষয় হলো, একদিকে যখন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অন্য প্রান্তে যুদ্ধের সলতে পাকানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে দক্ষিণ ইরান এবং বন্দর আব্বাস অঞ্চলে একাধিকবার সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন ফৌজ। আমেরিকা এই হামলাগুলিকে ‘আত্মরক্ষা’ বলে দাবি করলেও, ইরান এর তীব্র নিন্দা করে বলেছে যে আমেরিকা ইচ্ছা করে এই অঞ্চলে অশান্তি পাকাচ্ছে। আপাতত গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আমেরিকা ও তার সহযোগী ইউরোপীয় দেশগুলি।