কাতারে গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, তালিকায় একাধিক ভারতীয়!

কাতারের বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৬৬ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের এই তালিকায় একাধিক ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতায় দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর থেকে এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বিস্ফোরণের কারণ ও তীব্রতা
রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে ঘটা এই বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে রাজধানী দোহার বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয় এবং বাড়িঘরের জানালা কেঁপে ওঠে। কাতার প্রশাসনের প্রাথমিক দাবি, এটি একটি ‘প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনা’। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। ধাপে ধাপে যন্ত্রপাতি ঠান্ডা করে উৎপাদন শুরু করতে হয়। একসঙ্গে সমস্ত ইউনিট চালু করার ফলেই এমন বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
কাতারের জ্বালানি শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু এই রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি, যার বার্ষিক এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭ কোটি ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন। চলতি বছরের মার্চ মাসেই ইরান-সংঘাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই প্রকল্পের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাতারের মোট এলএনজি রফতানি সক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল। সেই ক্ষতি মেরামত করতেই তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে আগেই জানিয়েছিল কাতার এনার্জি। পরিকাঠামোগত সেই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই পুনরায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারে নতুন করে বড়সড় সংকট তৈরি করতে পারে। এমনিতেই পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বারবার ব্যাহত হয়েছে, এই নতুন দুর্ঘটনার জেরে বিশ্বজুড়ে এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি আরও বাড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।