সীমান্তে পুশব্যাক আতঙ্কে ঢাকা, ভারতের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে বিজিবি

বাংলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরপরই সীমান্ত সিল করার তোড়জোড় এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমন ও দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে আগামী ৮ জুন নয়াদিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) স্তরের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম সর্বোচ্চ স্তরের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
উদ্বেগের কারণ ও পটভূমি
পশ্চিমবঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই দীর্ঘদিনের জমি জট কাটিয়ে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়নের নীতি গ্রহণ করায় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকার রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভারতের এই কঠোর অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে নতুন করে মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। মূলত এই পুশব্যাক ইস্যু এবং সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়েই বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে আলোচনা হবে।
বৈঠকের এজেন্ডা ও সম্ভাব্য প্রভাব
নয়াদিল্লির এই শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের পক্ষে থাকবেন বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার। বৈঠকে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের ওপর হামলার অভিযোগ ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো স্থান পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে যে চরম অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের কঠোর সীমান্ত নীতির প্রভাব এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কতটা চাপ সৃষ্টি করে এবং দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কী ধরনের নতুন সমঝোতা আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ সীমান্ত পরিস্থিতি।