১০ ফুটের ঘর থেকে কোটি টাকার প্রাসাদ, ফুটবলের রূপকথা লিখলেন মেসি থেকে রোনাল্ডোরা

খেলাধুলার জগতে কঠোর পরিশ্রম আর সাফল্যের খিদে থাকলে যে ভাগ্যের চাকা সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ বিশ্ব ফুটবলের একঝাঁক মহাতারকা। একসময় যাঁদের দিন কেটেছে চরম দারিদ্র্য, জরাজীর্ণ ঘর কিংবা অপরাধপ্রবণ বস্তি এলাকায়, আজ তাঁরাই শাসন করছেন ফুটবল বিশ্ব। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কিংবা নেইমারদের জীবনকাহিনি প্রমাণ করে যে, স্বপ্নের প্রতি একনিষ্ঠ থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।
দারিদ্র্য জয় করে রাজপ্রাসাদে বিশ্বসেরারা
ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসির শৈশব কেটেছে আর্জেন্টিনার লা বাজাদার এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। চিকিৎসার জন্য মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পাড়ি দেওয়া সেই ছেলেই ২০২৩ সালে আমেরিকার ফ্লোরিডায় ১৪৮ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছেন বিলাসবহুল বাংলো। অন্যদিকে পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপের এক জরাজীর্ণ বাড়ি থেকে উঠে আসা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বর্তমান ঠিকানা রিয়াধের বিলাসবহুল অট্টালিকা। মাদ্রিদ ও লিসবন মিলিয়ে প্রায় ২৬০ কোটি টাকার আল্ট্রা-লাক্সারি প্রাসাদের মালিক তিনি। ব্রাজিলের নেইমারও শৈশবে ভাগাড়ের পাশে একটিমাত্র গদিতে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছেন, যিনি এখন দুবাইয়ের বিখ্যাত ‘বুগাতি রেসিডেন্স’ পেন্টহাউসের বাসিন্দা।
শিকড় ভোলেননি সালাহ ও সাদিও মানে
অনেকে চরম সাফল্য পেয়েও ভুলে যাননি নিজেদের অতীতকে। সেনেগালের প্রত্যন্ত গ্রামে জাম্বুরা (কাপড়ের টুকরো) দিয়ে ফুটবল খেলা সাদিও মানে আজ রিয়াধের প্রাসাদে থাকলেও নিজের গ্রামের উন্নয়নে স্কুল ও হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। একই পথ অনুসরণ করেছেন মিশরের নাগরিগ গ্রামের সাধারণ ঘরের ছেলে মহাম্মদ সালাহ। ইংল্যান্ডে বিলাসবহুল জীবন কাটানোর পাশাপাশি নিজের জন্মভূমিতে স্কুল, হাসপাতাল ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্র নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই লিভারপুল তারকা।
সংগ্রামের অন্য নাম মদ্রিচ ও ওসিমহেন
যুদ্ধ ও দারিদ্র্যের চরম রূপ দেখেছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ এবং নাইজেরিয়ার ভিক্টর ওসিমহেন। পাহাড়ি গ্রামের পাথুরে বাড়ি ছেড়ে দীর্ঘ সাত বছর শরণার্থী শিবিরে কাটানো মদ্রিচ এখন ইতালির মিলানের বাসিন্দা। অন্যদিকে লাগোসের এক ডাম্পিং সাইটের পাশে এককক্ষবিশিষ্ট ঘরে থেকে শৈশবে জলের প্যাকেট বিক্রি করা ওসিমহেন আজ লেকি এলাকার হ্যাম্পটন লেকের এক বিলাসবহুল প্রাসাদের মালিক।
ফরাসি তারকা করিম বেঞ্জেমা কিংবা আর্জেন্টিনার কার্লোস তেভেজের গল্পটাও একই রকম। অপরাধপ্রবণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে উঠে এসে আজ তাঁরা ব্যক্তিগত ভিলে ও রিসোর্ট ম্যানশনের মালিক হয়েছেন। এই তারকাদের জীবনের উত্থান শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত ভাগ্যই বদলায়নি, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি তরুণ ফুটবলারের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।