সোনার চেয়েও দামি! কেন এই আমের এক কেজির দাম কয়েক লক্ষ টাকা?

বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম কিনলে পকেট খালি হবে আপনার!
গরমের মৌসুমে হিমসাগর, ল্যাংড়া বা ফজলি আমের কদর সবার জানা থাকলেও বিশ্বের দরবারে এমন কিছু আম রয়েছে, যার দাম সাধারণের কল্পনার বাইরে। আন্তর্জাতিক বাজারে কেজি প্রতি কয়েক লক্ষ টাকায় বিক্রি হওয়া এই আমগুলো কেবল সুস্বাদের জন্যই নয়, বরং এর চাষ পদ্ধতি এবং বিশেষ যত্নের কারণেও অনন্য।
বিস্ময়কর মিয়াজাকি আমের মাহাত্ম্য
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম হিসেবে পরিচিত জাপানের ‘মিয়াজাকি’। জাপানের মিয়াজাকি প্রিফেকচারে বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ করা এই আম তার উজ্জ্বল লাল রং এবং অসাধারণ মিষ্টত্বের জন্য সমাদৃত। একে অনেক সময় ‘এগ অফ দ্য সান’ বা সূর্যের ডিম বলেও অভিহিত করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এই আমের দাম কেজি প্রতি আড়াই লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই আকাশচুম্বী দামের মূল কারণ হলো সীমিত উৎপাদন এবং অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত চাষ পদ্ধতি। প্রতিটি আমকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, সূর্যের আলো ও আর্দ্রতার মধ্যে বড় করা হয় এবং গাছ থেকে পড়ার আগেই বিশেষ নেট ব্যবহার করে তা সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। বিলাসবহুল উপহার হিসেবে জাপানে এই আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
প্রিমিয়াম আমের বিশ্ববাজার ও ভারতের অবস্থান
মিয়াজাকির পাশাপাশি জাপানের ‘তাইয়ো নো তামাগো’ আমও অত্যন্ত অভিজাত হিসেবে বিবেচিত, যার এক ডজনের দাম প্রায় দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকা হতে পারে। এদিকে ভারতের বাজারেও কিছু প্রিমিয়াম আমের অস্তিত্ব রয়েছে। মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুরে উৎপাদিত বিশাল আকৃতির ‘নূরজাহান’ আম তার ওজনের কারণে বিখ্যাত, যার প্রতিটি আমের দাম ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরি ও দেবগড়ের ‘আলফানসো’ বা হাপুস আম তার অতুলনীয় সুগন্ধ ও স্বাদের জন্য দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় বাজারের অন্যতম দামি আম হিসেবে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে। গুণমান ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই ধরনের প্রিমিয়াম আমের আকাশছোঁয়া দাম নির্ধারিত হয়।