মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের মেঘ, কুয়েতে ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ও ড্রোন হামলা

সোমবার ভোরে ফের একবার অশান্ত হয়ে উঠল মধ্যপ্রাচ্য। আচমকা কুয়েতের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে ঝাঁকে ঝাঁকে হামলা চালাল ইরান। আকস্মিক এই হামলার জেরে কুয়েতের একাধিক জায়গায় একনাগাড়ে যুদ্ধের সাইরেন বেজে ওঠে। আকস্মিক এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেই মূলত এই হামলা চালিয়েছে তেহরান। কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কুনা)-এর রিপোর্টে জানানো হয়েছে, হামলার সময় দেশজুড়ে সাইরেন বাজছিল এবং শত্রুপক্ষের মিসাইল ও ড্রোন ঠেকাতে কুয়েতি সেনা দ্রুত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সক্রিয় করে তোলে।
হামলার কারণ ও পটভূমি
এই আগ্রাসনের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সামরিক উত্তেজনা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, এর আগের দিনগুলোতে তারা ইরানের উপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল। সেন্টকমের দাবি, আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ইরানের দুটি ড্রোন তারা ধ্বংস করে। মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের গোরুক অঞ্চল এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং ড্রোন কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করে আঘাত হেনেছিল। অন্য দিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করায় তারা আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এমকিউ–১ ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ভূপাতিত করেছে। মূলত এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরেই ইরান কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে এই হামলা চালাল।
সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের মাটিতে ইরানের এই ড্রোন ও মিসাইল হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই প্রত্যক্ষ সংঘাতের ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ল। কুয়েতের মতো তেল সমৃদ্ধ দেশে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মন্দার চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, আঞ্চলিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে চলেছে।