ধর্মতলার শ্রী ফেরাতে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ শমীক, হকার উচ্ছেদ ঘিরে বিজেপির অন্দরেই তৈরি হলো ভিন্ন সুর

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হকার উচ্ছেদ নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই বিজেপি সভাপতির এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ধর্মতলার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক এলাকার শ্রী ফেরানোর বিষয়টির সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসন ও উচ্ছেদের প্রশ্নটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ঐতিহ্য রক্ষা বনাম হকারদের স্বার্থ
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ধর্মতলার অনিয়ন্ত্রিত হকারদের কারণে সেখানকার বহু প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। বড় বড় বিপণি ও প্রাচীন দোকানগুলোর সামনের অংশ হকাররা দখল করে রাখায় ক্রেতাদের যাতায়াত যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই পথচারী ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বর্তমান শাসক দলের আমলে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের প্রশ্রয়েই কলকাতার রাজপথের এই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ধর্মতলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দ্রুত দখলমুক্ত করা জরুরি।
পুনর্বাসনের পক্ষে দলের ভিন্ন সুর
ধর্মতলার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার পক্ষে সোচ্চার হলেও হকার উচ্ছেদের পদ্ধতি নিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্দরে স্পষ্ট দ্বিমত প্রকাশ পেয়েছে। দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, উচ্ছেদের আগে হকারদের মানবিক দিকটি বিবেচনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। উচ্ছেদের জেরে যেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজি চিরতরে বন্ধ না হয়ে যায়, সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবি উঠেছে দলের ভেতর থেকেই। ভবিষ্যতে প্রকৃত হকারদের চিহ্নিত করে পরিচয়পত্র প্রদানসহ অন্যান্য সহযোগিতার ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে দলের একাংশের তরফে।
রেলের জমি দখলমুক্ত করার তৎপরতা
অন্য দিকে, রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে হকার সরানোর বিষয়ে কিছুটা কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিজেপির একাংশের দাবি, রেলের জমি দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল। পূর্বে রেল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নোটিস দিলেও স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পুরসভার অসহযোগিতার কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো এ রাজ্যেও রেলের জমি থেকে অবৈধ দখল সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি রেল স্টেশনে ইতিমধ্যেই এই উচ্ছেদ অভিযান কার্যকর হয়েছে বলে সূত্রের খবর।