বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডার বাঁচাতে সোনা বিক্রি করল আরবিআই, ব্লুমবার্গের রিপোর্টে তীব্র চাঞ্চল্য

বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডার বাঁচাতে সোনা বিক্রি করল আরবিআই, ব্লুমবার্গের রিপোর্টে তীব্র চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতার মাঝেই ভারতের অর্থনীতিতে বড়সড় ঝাঁকুনি। বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডারের পতন রুখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) তাদের সঞ্চিত স্বর্ণভাণ্ডারের একটি বড় অংশ বিক্রি করেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা আরবিআইয়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে এই রিপোর্ট সামনে আসতেই দেশের অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সংকটের নেপথ্যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও ডলারের দাপট

ব্লুমবার্গের রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে, মূলত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। এর ফলে ভারতের আমদানি খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, ভারতীয় বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্য রেকর্ড পতনের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই বহুমুখী আর্থিক চাপ সামাল দিতে এবং দেশের বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডার অটুট রাখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সোনা বিক্রির পথ বেছে নিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

এক লক্ষ কোটিরও বেশি মূল্যের সোনা হাতবদল

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২২ মে শেষ হওয়া সপ্তাহ এবং তার আগের সপ্তাহ মিলিয়ে মাত্র দুই দফায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বর্ণভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জানা গেছে, বিক্রিত এই সোনার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সোনায় আমদানি শুল্ক বাড়ানো সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঞ্চিত সোনা কমে যাওয়া এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। এই চরম আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সংকটের স্মৃতি

চলতি এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিবিদদের একাংশকে ১৯৯১ সালের ভয়াবহ আর্থিক মন্দার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেই সময় তৎকালীন চন্দ্রশেখর সরকারের আমলে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে গোপনে বিমানে করে ৪৭ টন সোনা ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডে এবং পরবর্তীতে আরও ২০ টন সোনা সুইৎজারল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সেই স্তরে না পৌঁছালেও, এক লক্ষ কোটি টাকার সোনা বিক্রির এই দাবি ভারতীয় অর্থনীতির উপর তৈরি হওয়া বিপুল চাপকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *