পুনঃপরীক্ষার আগেই ফের নিট প্রশ্ন ফাঁসের ছক, চরম উদ্বেগে ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থী

পুনঃপরীক্ষার আগেই ফের নিট প্রশ্ন ফাঁসের ছক, চরম উদ্বেগে ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থী

মেডিকেলের স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট ইউজি নিয়ে বিতর্ক ও কেলেঙ্কারি কিছুতেই থামছে না। আগামী ২১ জুন দেশজুড়ে নতুন করে নিট পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এবার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভারতীয় বায়ুসেনাকে নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মাঝেই ফের সমাজমাধ্যমে প্রশ্নপত্র দেদার বিক্রি এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে পাশ করিয়ে দেওয়ার গ্যারান্টির অভিযোগ সামনে আসায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকায় প্রশ্ন বিক্রির টোপ

আহমেদাবাদের একটি চক্র সমাজমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে এই প্রশ্ন ফাঁসের কারবার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহমেদাবাদের সমাজকর্মী শুভম ঠক্কর ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সাইবার অপরাধ বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তিনি নিজেই ওই চক্রের এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। শুভমের দাবি, চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছে ৩৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছে। অগ্রিম টাকা নেওয়ার জন্য কিউআর কোডও ব্যবহার করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে দিল্লির একটি নামী কোচিং সেন্টারের শিক্ষকও জড়িত বলে অভিযোগ।

সাদা খাতা জমা দিলেই পাশের গ্যারান্টি

তদন্তে আরও জানা গেছে, এক পরীক্ষার্থীকে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় ৬২০-র বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি করেছে এই চক্রটি। পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে শুধুমাত্র সাদা খাতা জমা দিয়ে আসতে বলা হয়েছে। ওএমআর শিট বা খাতা ফাঁকা থাকলে পরবর্তীতে এজেন্সির মাধ্যমে সেখানে সঠিক উত্তর লিখে দেওয়া হবে। চক্রের সদস্যরা দাবি করেছে, তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় রয়েছে, তাই ধরা পড়ার কোনো ভয় নেই।

শিক্ষা নেয়নি এনটিএ, বাড়ছে ক্ষোভ

২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও নিট পরীক্ষার এই প্রশ্ন ফাঁস বিতর্ক ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। শীর্ষ আদালতও সম্প্রতি মন্তব্য করেছে যে, অতীতের ঘটনা থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাটি। পুনঃপরীক্ষার দিন যত এগিয়ে আসছে, এই ধরণের প্রতারণামূলক চক্রের রমরমা এবং জালিয়াতির অভিযোগে ২০ লক্ষেরও বেশি সৎ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ততটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *