তৃণমূলের সই-কাণ্ডে তৎপর সিআইডি, ভবানী ভবনে অভিষেকের হাজিরা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা!

তৃণমূলের সই-কাণ্ডে তৎপর সিআইডি, ভবানী ভবনে অভিষেকের হাজিরা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা!

রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা বিধানসভার বিধায়কদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্ক বা সই-কাণ্ডে তদন্তের গতি এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল সিআইডি। এই চাঞ্চল্যকর মামলার জল মাপতে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করেছে রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ। সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার এক শীর্ষ আধিকারিকের নেতৃত্বে গঠিত এই বিশেষ দলটির অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকার মাধ্যমে কাজ শুরু করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তের গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিচার করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এই হাইপ্রোফাইল মামলার তদন্তে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানী ভবনে হাজিরা। গত শনিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতায় তাঁর বাসভবনে গিয়ে সিআইডি আধিকারিকরা সোমবার দুপুর ১২টায় ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার জন্য একটি নোটিস দিয়ে আসেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হবেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তদন্তের নেপথ্য কারণ ও গতিপ্রকৃতি

সমগ্র বিতর্কের সূত্রপাত রাজ্য বিধানসভায় জমা পড়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচন সংক্রান্ত ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সইয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বাক্ষরের এই অসঙ্গতি নিয়ে বিধানসভার পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার যৌথভাবে সিআইডি-র হাতে যায়।

তদন্তকারী দলের মূল লক্ষ্য হলো বিতর্কিত স্বাক্ষরগুলির ফরেনসিক ও বাস্তবিক সত্যতা যাচাই করা। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিআইডি ইতিমধ্যেই নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং বাহারুল ইসলামের মতো একাধিক হেভিওয়েট নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের বক্তব্য নথিবদ্ধ করেছে। চিঠিতে সই করার সময়কার পরিস্থিতি এবং নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।

রাজনৈতিক প্রভাব ও তৈরি হওয়া জটিলতা

সিআইডি-র এই চরম সক্রিয়তার মাঝেই গত শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি অনভিপ্রেত ঘটনা গোটা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন তিনি। এই ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয় এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে নিজের বাড়িতেই রয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার এই আবহেই সোমবারের সিআইডি তলব আসায় আইনি ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সই-কাণ্ডের তদন্তের প্রভাব রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে সোনারপুরের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি ও আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে, অন্যদিকে সিআইডি-র এই ‘সিট’ গঠন আইনি চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন নাকি সময় চেয়ে নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে এই মামলার পরবর্তী আইনি মোড়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *