স্কুল খুলতেই ঐতিহাসিক বদল, প্রার্থনায় এবার বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’

স্কুল খুলতেই ঐতিহাসিক বদল, প্রার্থনায় এবার বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’

দীর্ঘ গরমের ছুটি কাটিয়ে সোমবার থেকে রাজ্যে ফের সচল হয়েছে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলির স্বাভাবিক পঠনপাঠন। তবে শিক্ষাবর্ষের এই নতুন সূচনার প্রথম দিনেই রাজ্যজুড়ে এক নজিরবিহীন আবহ তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি স্কুল ও মাদ্রাসার সকালের প্রার্থনা সভায় বাধ্যতামূলকভাবে গাইতে হবে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গানটি। ছুটির পর প্রথম দিনেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে এই নিয়ম কার্যকর করতে দেখা গেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষা দফতরের নতুন এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ গানের কেবল প্রথম দুটি স্তবক নয়, বরং সম্পূর্ণ গানটিই গাইতে হবে। পুরো গানটি গাইতে সময় লাগে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড এবং এর সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়ার জন্য নির্ধারিত ৫২ সেকেন্ড যুক্ত হচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র এই দুটি দেশাত্মবোধক গান গাইতেই প্রতিদিন প্রার্থনা সভার চার মিনিটের বেশি সময় ব্যয় হবে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রার্থনা সঙ্গীত থাকায় সামগ্রিক প্রার্থনা পর্বের সময়সীমা ১০ মিনিট ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক প্রস্তুতি ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সরকারি নির্দেশিকাটি গরমের ছুটির সময়েই জারি হওয়ায় পড়ুয়াদের আগে থেকেই গানটি মুখস্থ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ গানটি বেশ দীর্ঘ হওয়ায় প্রথম দিনে বহু শিক্ষার্থীর তা পুরোপুরি আয়ত্তে আসেনি। এই সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন স্কুলে মোবাইল বা অডিও সিস্টেমের মাধ্যমে গানটি বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষকরা আশাবাদী যে, নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে দ্রুতই শিক্ষার্থীরা পুরো গানটি মুখস্থ গেয়ে উঠতে পারবে।

এদিকে এই নতুন নিয়মকে কেন্দ্র করে শিক্ষামহলে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের একটি অংশের মতে, প্রাথমিক জটিলতা এড়াতে প্রথমে দুটি স্তবক গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে ভালো হতো। অন্যদিকে, মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রেও এই নিয়ম সমভাবে কার্যকর করা হয়েছে। কিছু মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ণ গান গাওয়ার সময়সীমা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে মৃদু প্রশ্ন তুললেও সরকারি নির্দেশ মেনে সোমবার থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করেছেন।

প্রভাব ও নতুন আবহ

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের নির্দেশিকা চালুর মূল কারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ এবং শৃঙ্খলার বিকাশ ঘটানো। তবে হঠাৎ করে প্রার্থনা সভার সময়সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুলগুলির দৈনিক ক্লাস নেওয়ার রুটিনে কিছুটা সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, প্রথম দিনে গান শেখার তৎপরতা এবং নতুন নিয়মকে ঘিরে জল্পনার মধ্য দিয়েই রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *