মন কি বাতে মোদির মুখে বাংলার হিমসাগর, আম চাষিদের ভূয়সী প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৪-তম পর্বে দেশজুড়ে আম চাষ ও তার বৈচিত্র্য নিয়ে এক অনন্য ‘ম্যাঙ্গো চর্চা’ উঠে এল। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিখ্যাত আমের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি ভারতের আমচাষিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের কৃষকরা ভারতের আমের ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিচ্ছেন। এই আলোচনায় অবধারিতভাবেই স্থান করে নিয়েছে বাংলার গর্ব সুমিষ্ট হিমসাগর আম।
আঞ্চলিক আমের স্বকীয়তা ও কৃষি অর্থনীতিতে প্রভাব
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ভারতের প্রতিটি অঞ্চলের আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে আমের চেহারা, রং এবং স্বাদও বদলে যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি মহারাষ্ট্রের আলফানসো, গুজরাতের কেশর, উত্তরপ্রদেশের দসেহরি ও ল্যাংড়া, বিহারের জারদালু এবং দক্ষিণ ভারতের বঙ্গনাপল্লির পাশাপাশি বাংলার হিমসাগর ও মালদহের আমের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
কৃষকদের অবদানকে কুর্ণিশ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমচাষে নিযুক্ত কৃষকরা কেবল সাধারণ চাষি নন, বরং তাঁরা দেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করে তুলছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই স্তুতি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় আমের চাহিদা ও রপ্তানি আরও বাড়িয়ে তুলতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সমাজ সংস্কার ও পরিবেশ রক্ষার অনন্য খণ্ডচিত্র
আম-চর্চার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের অনুপ্রেরণামূলক লড়াইয়ের কাহিনী তুলে ধরেন। উত্তরপ্রদেশের মনোরমা নদীকে দূষণমুক্ত করার ক্ষেত্রে তরুণ আকাশ গুপ্তার উদ্যোগ এবং গোয়ার জলের সমস্যা দূরীকরণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বালকৃষ্ণ আইয়ার লড়াইয়ের প্রশংসা করেন তিনি। এছাড়া ১০০ মিটার দৌড়ে জাতীয় রেকর্ড গড়া দুই অ্যাথলিট গুরিন্দরবীর সিং ও অনিমেষ কুজুরের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করা হয়। কেরলে বিনামূল্যে সাঁতার শেখানো সাজি ভালাশেরিল এবং সেনাকল্যাণে শিক্ষার্থীদের জমানো ৪০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া তামিলনাড়ুর প্রবীণ শিক্ষাবিদ ‘গিরিজা আম্মা’-র অবদানকে সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে গঙ্গা মিশনের আওতায় উত্তরপ্রদেশে ডলফিন উদ্ধারকারী বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্সের সাফল্যের খতিয়ানও এই পর্বে পরিবেশিত হয়।