মমতার বৈঠক বয়কট তৃণমূল বিধায়কের, বিস্ফোরক মন্তব্যে অস্বস্তিতে শাসকদল

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা হাইভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত হননি সিংহভাগ বিধায়ক। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অনুপস্থিত থাকায় শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয় পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠক। দলনেত্রীর ডাকা এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কেন এড়িয়ে গেলেন, তা নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দিলেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বৈঠক বয়কটের কারণ
সংবাদসংস্থার মুখোমুখি হয়ে সন্দীপন সাহা সাফ জানান, এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পাননি। তাঁর অভিযোগ, এর আগের একটি বৈঠকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, ডেপুটি লিডার এবং চিফ হুইপ নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত হলেও, রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও সেই প্রস্তাব যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত বিধি অনুসরণ না করায় বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে নিয়ম ও পদ্ধতির সঠিক পর্যালোচনা না করেই আবার নতুন বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিধায়কের মতে, যেখানে দলনেত্রী নিজেই সব কথা বলবেন এবং অন্যদের কথা শোনা হবে না, সেখানে গিয়ে সময় নষ্ট করার কোনও মানে নেই।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরের এই নজিরবিহীন বিদ্রোহ এবং ৬০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি শাসকদলের অন্দরে সমন্বয়ের অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন দলীয় বিধায়ক যেভাবে প্রকাশ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের একনায়কতন্ত্র এবং সংসদীয় নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তুললেন, তা দলের শৃঙ্খলার পক্ষে বড় ধাক্কা। বিধানসভার আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণে খামতির যে অভিযোগ সন্দীপন সাহা তুলেছেন, তা আগামী দিনে বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে ফাটল আরও চওড়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।