উন্নয়নের দাওয়াই খুঁজতে তৎপর নবান্ন, নীতি আয়োগের বৈঠকের আগে সচিবদের জরুরি রিপোর্ট তলব শুভেন্দুর

উন্নয়নের দাওয়াই খুঁজতে তৎপর নবান্ন, নীতি আয়োগের বৈঠকের আগে সচিবদের জরুরি রিপোর্ট তলব শুভেন্দুর

আগামী ১১ জুন দিল্লিতে নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেশের নীতিনির্ধারক এই মঞ্চে রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি ও দাবিদাওয়া জোরালোভাবে তুলে ধরাই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যপূরণে দিল্লির বৈঠকের আগেই রাজ্যের সব দফতরের বর্তমান হালহকিকত জানতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ জুনের মধ্যে রাজ্যের সব দফতরের সচিবদের এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত এই ধরণের প্রশাসনিক রিপোর্টের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীদের ওপর থাকে। তবে সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভায় নতুন ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও এখনও তাঁদের দফতর বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ৫ জুনের মতো স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন মন্ত্রীদের পক্ষে এই রিপোর্ট তৈরি করা আসাম্ভব। প্রশাসনিক কাজে গতি বজায় রাখতে এবং নীতি আয়োগের প্রস্তুতির স্বার্থেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি সচিবদের থেকে এই রিপোর্ট তলব করেছেন।

কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আদায়ে মরিয়া নবান্ন

নবান্ন সূত্রে খবর, বর্তমান সরকার মনে করে যে বিগত ১৫ বছরে পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতা ও সংঘাতের রাজনীতির কারণে কেন্দ্র থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করা সম্ভব হয়নি। এবার সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের বকেয়া ও ন্যায্য পাওনা বুঝে নিতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী। নীতি আয়োগের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুসম্পর্কের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে সুপরিচিত। বালুরঘাটের প্রাক্তন এই বিধায়ক নীতি আয়োগের শীর্ষপদে থাকায়, তাঁর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড় অঙ্কের কেন্দ্রীয় অনুদান ও প্রকল্প আদায় করা সহজ হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বাজেটের আগে আর্থিক বোঝা কমানোর কৌশল

চলতি জুন মাসের শেষেই রাজ্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে নীতি আয়োগের এই বৈঠক রাজ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় অনুদানভুক্ত প্রকল্পগুলিতে রাজ্যকে যুক্ত করতে পারলে নবান্নের আর্থিক বোঝা অনেকটাই লাঘব হবে, কারণ এই ধরনের প্রকল্পগুলিতে সাধারণত কেন্দ্র অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ বহন করে। সচিবদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রী নীতি আয়োগের বৈঠকে রাজ্যের প্রকল্প, বরাদ্দ এবং অনুদানের চূড়ান্ত রূপরেখা নিশ্চিত করতে চান। এই রণকৌশল সফল হলে একদিকে যেমন বাজেটের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে তেমনই থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলিতে গতি আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *