পুলিশ আর হেনস্তা করতে পারবে না? যৌন পেশা নিয়ে ঐতিহাসিক বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

পুলিশ আর হেনস্তা করতে পারবে না? যৌন পেশা নিয়ে ঐতিহাসিক বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের স্বেচ্ছায় যৌনপেশা বেছে নেওয়া কোনো অপরাধ নয় এবং এই অজুহাতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক মামলা বা হেনস্তা করা যাবে না। এক ঐতিহাসিক রায়ে এই সাফ বার্তা দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, যৌনপল্লিতে অভিযানের নামে স্বেচ্ছায় এই পেশায় যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের জোরপূর্বক আটক বা পুনর্বাসনের নামে হেনস্তা করা আইনসম্মত নয়। আদালতের এই যুগান্তকারী নির্দেশিকার ফলে দেশের প্রায় ৯ লক্ষ যৌনকর্মী আইনি সুরক্ষা পেতে চলেছেন।

আইনি ব্যাখ্যা ও পুলিশের এক্তিয়ার

শীর্ষ আদালত বর্তমান আইনি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে এই নির্দেশ দিয়েছে। দেশের প্রচলিত ‘ইমোরাল ট্র্যাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, পতিতালয় চালানো বা কাউকে জোর করে দেহ ব্যবসায় নামানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি নিজের ইচ্ছায় এই পেশা বেছে নেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো এক্তিয়ার পুলিশের নেই। আদালত জানিয়েছে, অনেক সময় তল্লাশির নামে উদ্ধার করার অজুহাতে যৌনকর্মীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়, যা তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী। এখন থেকে যেকোনো উদ্ধার বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট যৌনকর্মীর নিজস্ব মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সামাজিক ও আইনি প্রভাব

এই রায়ের ফলে ভারতের প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এক নতুন মাত্রা পেল। ভারতীয় সমাজে যৌনপেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত যে সামাজিক বক্রদৃষ্টি এবং পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন, এই গাইডলাইন তা অনেকটাই লাঘব করবে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যেমন পতিতালয় চালানো বা মানব পাচারের মতো অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের আইনি পদক্ষেপ জারি থাকবে, অন্যদিকে তেমনই স্বেচ্ছায় কাজ করা যৌনকর্মীদের মৌলিক অধিকার ও আত্মসম্মান সুরক্ষিত থাকবে। এই ভারসাম্য দেশের আইন রূপায়ণকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা আরও বাড়িয়ে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *