নীরব মোদি ও মালিয়াদের দুর্নীতির তদন্তকারী অফিসারের আচমকা স্বেচ্ছাবসর!

নীরব মোদি ও মালিয়াদের দুর্নীতির তদন্তকারী অফিসারের আচমকা স্বেচ্ছাবসর!

ভারতের আর্থিক অপরাধ দমন শাখা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির একাধিক হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তকারী অফিসার সত্যব্রত কুমার মাত্র ৪৮ বছর বয়সে আচমকা স্বেচ্ছাবসর (ভিআরএস) নিয়েছেন। চাকরির মেয়াদ আরও ১১ বছর বাকি থাকতেই ২০০৪ ব্যাচের এই ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস) অফিসারের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি করেছে। মূলত কাস্টমস ক্যাডারের অফিসার হলেও তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ইডিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এবং সর্বশেষ শিলিগুড়িতে কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত এপ্রিল মাসেই কেন্দ্র সরকারের কাছে করা তাঁর স্বেচ্ছাবসরের আবেদন মঞ্জুর হয়। পিটিআই সূত্রের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে চাকরি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

হেভিওয়েট মামলার তদন্ত ও বদলি

সত্যব্রত কুমার তাঁর কর্মজীবনে দেশের বহু চাঞ্চল্যকর ও প্রভাবশালী দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদি ও মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা এবং লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়ার ঋণখেলাপী মামলার তদন্তভার ছিল তাঁরই কাঁধে। এছাড়া মহারাষ্ট্রের রাজনীতির একাধিক স্পর্শকাতর আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং দেশজুড়ে শোরগোল ফেলা মহাদেব বেটিং অ্যাপ মামলার তদন্তও তিনি করছিলেন। তবে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত চলাকালীনই তাঁকে আচমকা ইডি থেকে বদলি করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে সেই সময়েও নানা প্রশ্ন উঠেছিল।

এক বছরে দুই শীর্ষ আধিকারিকের বিদায় ও প্রশাসনিক প্রভাব

গত এক বছরের মধ্যে ইডির দুই শীর্ষস্তরের প্রাক্তন অফিসারের এভাবে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সত্যব্রত কুমারের আগে কপিল রাজ নামের আরেক প্রভাবশালী ইডি আধিকারিকও একইভাবে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে জেলে পাঠানোর নেপথ্যে অন্যতম মূল তদন্তকারী ছিলেন এই কপিল রাজ। পরবর্তীতে তাঁকে দিল্লির জিএসটি ইন্টেলিজেন্স শাখায় বদলি করা হয়েছিল। সত্যব্রতর মতো তাঁরও স্বেচ্ছাবসরের আবেদন কেন্দ্র অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অনুমোদন করে।

পরপর দুজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ তদন্তকারী অফিসারের এই আচমকা বিদায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ কাজের পরিবেশ এবং মেগা দুর্নীতি মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ অগ্রগতির ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *