নিরাপত্তারক্ষীর হাতেই চরম লাঞ্ছনা, খাস কলকাতায় এবার আক্রান্ত বৈশাখী ও তাঁর নাবালিকা কন্যা!

খাস কলকাতায় প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে ঘটল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। খোদ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত দেহরক্ষী সঞ্জু শর্মার বিরুদ্ধে তাঁর বিশেষ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাবালিকা কন্যার শ্লীলতাহানি এবং বৈশাখী দেবীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে রবীন্দ্র সরোবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ অভিযুক্ত সঞ্জু শর্মাকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গীর চরম রূপ
দীর্ঘদিন ধরে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকেন। অভিযুক্ত সঞ্জু শর্মা দীর্ঘদিন ধরে প্রাক্তন বিধায়কের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবেই গণ্য করা হতো। জানা গেছে, গত বেশ কিছুদিন ধরে ওই দেহরক্ষী মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করছিলেন। এই নিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় নিজে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করলেও তিনি তা আমলে নেননি। এর আগে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর একাধিকবার কথা কাটাকাটি হলেও সঞ্জুর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
ঘটনার বিবরণ ও প্রভাব
কয়েক দিন আগে শোভন চট্টোপাধ্যায় যখন বাড়িতে ছিলেন না, তখন ফ্ল্যাটে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মেয়ে ছাড়া সঞ্জুও উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, সেই সুযোগেই অভিযুক্ত সঞ্জু শর্মা বৈশাখী দেবীর নাবালিকা মেয়ের শ্লীলতাহানি করে। মেয়ের আর্তনাদ শুনে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে এসে বাধা দিলে অভিযুক্ত তাঁকেও নির্মমভাবে মারধর করে। এই ঘটনার পর বৈশাখী দেবী রবীন্দ্র সরোবর থানার দ্বারস্থ হন এবং পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনে। একজন অতি বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালীর নিরাপত্তারক্ষীর এমন আচরণ হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একই সাথে, ঘরের ভেতরের পরিচিত মানুষদের আসল রূপ চেনা এবং তাঁদের ওপর অন্ধ বিশ্বাসের সম্ভাব্য মারাত্মক পরিণতি এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে।